একজন সফল ফ্যাশন উদ্যোক্তা

মো. মুসলিম ঢালী প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী, মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভ স্বপ্ন দেখেন দেশের ফ্যাশন শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে। আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে দেশিয় ঐতিহ্যের মিশেলে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ও ক্ষুদ্র গার্মেন্ট শিল্পের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের বেকারত্ব দূর ও নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যও তার। বলছিলাম মুসলিম গার্মেন্ট, মুসলিম কালেকশন ও মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভের স্বত্ত্বাধিকারী ও প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার মো. মুসলিম ঢালীর কথা। চেষ্টা, পরিশ্রম আর সততা—এই তিনের সমন্বয়ে একজন সফল ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি গড়েছেন নিজের সফল ক্যারিয়ার। ফ্যাশন নিয়ে তার ভাবনাটা ছাত্রজীবন থেকেই। দেখেছেন দেশ-বিদেশের ফ্যাশন ট্রেন্ড। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নিজে কিছু করার। তিনি বিশ্বাস করতেন—চেষ্টা, পরিশ্রম আর সততা থাকলে উন্নতি হবেই, সাফল্য আসবেই। নিজের স্বপ্ন ও সাফল্য সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন মুসলিম কালেকশনের নিত্যনতুন ডিজাইনের শার্টের নেপথ্যের মানুষ মো. মুসলিম। এই ফ্যাশন উদ্যোক্তা নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এরই মধ্যে লাভ করেছেন বেশকিছু পুরস্কার। ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর শ্রেষ্ঠ ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাবিসাস অ্যাওয়ার্ড-২০১২ পেয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত ফ্যাশন প্রতিযোগিতায় তার ডিজাইন করা শার্টের জন্য সেরা ফ্যাশন হাউজের পুরস্কার পায় মুসলিম কালেকশন। এ ছাড়াও ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা হিসেবে তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু পুরস্কার। মো. মুসলিম জানান, দেশে লেখাপড়া শেষে তিনি ভারতে যান ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর পড়ালেখা করতে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ তখন সারাদেশের তৈরি পোশাকের পাইকারি মার্কেট হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে ফিরে দেশিয় ফ্যাশনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ভাবনা ধরা দেয় তার মাঝে। তখন মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় মুসলিম গার্মেন্টের। এরপর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় কেরানীগঞ্জের মাহবুব আলম শপিং কমপ্লেক্সে তিনি গড়ে তোলেন মুসলিম কালেকশন এবং জিলা পরিষদ মার্কেটে গত বছর যাত্রা শুরু হয় মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভের। মো. মুসলিম বলেন, ‘মুসলিম কালেকশনে বর্তমানে কাজ করছেন ৭ শতাধিক নারী-পুরষ। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। শুরুতে যে গার্মেন্টের আকার ছিল ২ হাজার বর্গফুট, এখন সেটা হয়েছে ৯ হাজার বর্গফুট।’ এ ছাড়া গত বছরের ২৬ জুন বিশাল পরিসরে যাত্রা শুরু করে মুসলিম গার্মেন্ট। কেরানীগঞ্জের জিলা পরিষদ মার্কেটে মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভ নামে উদ্বোধন করা হয় এক হাজার বর্গফুট আয়তনের নতুন শো-রুম। তিনি জানান, এ শো-রুম চালু হওয়ায় কর্মসংস্থান হয়েছে আরও তিনশ মানুষের। মো. মুসলিম জানান, শার্টের জন্য বোম্বে, চায়না, থাইল্যান্ড এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারখানা ঘুরে মান যাচাই করে ভালোমানের ফেব্রিকস পছন্দ করা হয়। আর সেই ফেব্রিকস দিয়ে সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী দ্বারা নিজস্ব কারখানায় তৈরি হয় শার্ট। তিনি জানান, সারাদেশেই এখন তার কারখানার শার্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরের ক্রেতারাও বর্তমানে মুসলিম কালেকশনের শার্ট সংগ্রহ করছেন। ফ্যাশন উদ্যোক্তা মো. মুসলিম বলেন, ‘ফ্যাশন ও ক্ষুদ্র গার্মেন্ট শিল্পের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ ও সরকারের সহযোগিতা আরও প্রসারিত হলে এ শিল্পে উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ তিনি জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তার প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে নারীদের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। মুসলিম গার্মেন্ট ভবিষ্যতে আরও বৃহত্ পরিসরে কাজ করবে এবং এখানে আরও অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন মো. মুসলিম। কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন বলেও জানান তিনি। এ শিল্পে প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পেশা হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইনিং বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড অনেক বেশি বিস্তৃত, প্রতিযোগিতাও বেশি। যে কারণে নিজেকে প্রমাণ করার একমাত্র উপায় ভালো কাজের স্বাক্ষর রাখা। ফ্যাশনের বিভিন্ন মোটিফ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। বর্তমানে ঋতুভিত্তিক ফ্যাশন বেশ জনপ্রিয়। যে কারণে প্রতিটি ঋতুর ধরণ অনুযায়ী কাপড়, রঙ ও ডিজাইন নির্বাচন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ক্রেতাদের চাহিদার ওপর। সেই সঙ্গে বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সমসাময়িক ধারণা তো থাকতেই হবে।’ মো. আব্দুল হালিম