ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, শেখ কালাম (৫২) ও জাহিদুল ইসলাম (৪৩)।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বান্দুরা সড়ক উপজেলার পুরাতন বান্দুরা চক এলাকার পল্লী বিদ্যুতের পাড়হাউজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শেখ কালাম উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের শেখ কদম আলীর ছেলে ও জাহিদুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত মো. ফৌজদার খানের ছেলে।
স্থানীয় ও জাহিদের বন্ধুরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদ মোটরসাইকেল যোগে কালামকে নিয়ে গান শুনতে নয়নশ্রীর দেওতলা এলাকায় ফকির বাড়িতে যায়। রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পুরাতন বান্দুরা চক এলাকার পাড়হাউজের সামনে আসলে রাস্তায় কলাগাছ পড়া দেখতে পায়। এসময় জাহিদ মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয় এবং রাস্তায় ৩ ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাৎক্ষনিক দুর্বৃত্তরা জাহিদের পিছনে বসা কালামের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে কালাম মাটিতে পড়ে যায়। জাহিদ মোটরসাইকেল নিয়ে একটু এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা তাকেও লাঠির আঘাত করে। এসময় চিৎকার দিলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
আরো পড়ুন: স্ত্রীকে নকল সরবরাহ করায় পুলিশ কর্মকর্তার কারাদণ্ড
এরপর জাহিদ তার বন্ধু খোকনকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে খোকন পুলিশকে জানায়। পুলিশের সহযোগিতায় জাহিদের বন্ধুরা ঘটনাস্থল থেকে আহত কালামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, কালাম আগেই মারা গেছে।
এদিকে জাহিদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে কালামের মৃত সংবাদ পেয়ে বুকে ব্যথা অনুভব করে এবং সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে । তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই জাহিদ মারা যায়।
দুই ব্যক্তির মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং থানায় একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ