নাইজেরিয়ায় বন্দুকের মুখে ১শ’ স্কুলছাত্রী অপহরণ

নাইজেরিয়ায় মাধ্যমিক স্কুল থেকে একশ’রও বেশি ছাত্রীকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। এ ঘটনায় এক সেনা সদস্যসহ মোট দুইজন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নিও প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে। বন্দুকধারীরা এসময় শহরের বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এখন পর্যন্ত হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। দেশটির রাজধানী আবুজায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের একদিন পর এ অপহরণের ঘটনা ঘটলো। প্রদেশটির নিরাপত্তা দপ্তর থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অপহরণের সময় হামলাকারীদের রেখে যাওয়া হাতের ছাপ থেকে বোঝা যাচ্ছে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠি বোকো হারামের সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে সোমবার সকালে দেশটির রাজধানী আবুজার উপকণ্ঠে ভয়াবহ বোমা হামলায় ৭৫ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক ছাত্রী অপহরণের ঘটনাটি ঘটলো। সোমবার সূর্যাস্তের পর চিবোক এলাকার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টিতে চড়াও হয় জঙ্গিরা। তারা স্কুলটির পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে এস সেনা ও স্কুলে টহলরত পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এর আগে স্কুলটির কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। রাজ্যের প্রধান শহর মাইদুগুরিতে পালিয়ে আসা চিবোকের এক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমানুয়েল স্যাম জানিয়েছেন, ব্যাপক অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের হামলার মুখে টিকতে না পেরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটলে স্কুলটির দখল নেয় জঙ্গিরা। তারপর স্কুল ছাত্রীদের জোর করে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছেন, জঙ্গিরা একশরও বেশি ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনার জন্য তিনি বোকো হারামকে দায়ী করেন। উগ্রপন্থি গোষ্ঠী বোকো হারামের নামের অর্থই “পশ্চিমা শিক্ষা হারাম।” আমরা ট্রাকটির গতিপথ অনুসরণ করে গভীর জঙ্গলের মধ্যে পরিত্যক্ত ভাঙা অবস্থায় ট্রাকটি পেয়েছি,” বলেন তিনি।