ইসলামী ব্যাংক চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছিল
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৩
গিনেসবুকে রেকর্ড গড়তে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংক চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে টাকা দিতে চেয়েছিল বলে দাবি করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমিতে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠান নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনুষ্ঠানের জন্য অনেকগুলো বৈঠক করেছি। তারমধ্যে প্রথম বৈঠকটি করি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে। সেখানে ইসলামী ব্যাংককে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হয়নি। একই সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠানের অনুদান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা হওয়ায়, ইসলামী ব্যাংক সেখানে একটি চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক তিন কোটি টাকার একটি চেক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠান। সেখানে তারা ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠানের জন্য এই অনুদান পাঠিয়েছে বলে জানা গেলে, আমরা তত্ক্ষণাত্ সেই টাকা ফেরত দিই।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আপনারা চাইলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারেন। অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমরা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছি।’ খাবার প্যাকেটে ইবনে সিনার খাবার স্যালাইন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তিন লাখ খাবার প্যাকেট করা হয়েছিল। সেটি বেশ কটি প্রতিষ্ঠান করেছে, সব প্যাকেটে নয়; কিছু প্যাকেটে ইবনে সিনার স্যালাইন চলে যায়, বিষয়টি আমরাও জানতাম না।’
মন্ত্রী বলেন, ৩ এপ্রিল গিনেস বিশ্ব রেকর্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের বিশ্ব রেকর্ড করার সংবাদটি জানান। শিগগির লিখিত স্বীকৃতি আমরা লন্ডন থেকে নেয়ার ব্যবস্থা করবো। এই অনুষ্ঠানের জন্য আমরা ব্যয় ধরেছিলাম ৪৫ কোটি টাকা। আমরা অনুদান পেয়েছি ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু সকলের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টায় এই ব্যয় কমিয়ে ৩০ কোটি টাকায় সম্পন্ন করতে পেরেছি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সর্বাধিক জনগণের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা দেশপ্রেমের বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছি। গিনেস বুকে নাম লেখানো একটা উপলক্ষ হলেও সেটি আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ‘দেশপ্রেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়া’ যা আমরা করতে পেরেছি। এই একটি গান গাইবার জন্য সাধারণ মানুষ যে ভাবে সাড়া দিয়েছে তা অকল্পনীয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক, কমোডোর কাজী ইমদাদুল হক ও সংস্কৃতি সচিব রনজিত্ কুমার বিশ্বাস।
কাজী ইমদাদুল হক বলেন, লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠানে সর্বাধিক অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করেছে। তিনি এর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।