ভেঙ্গে দেয়া হবে বিএনপির সব জেলা-উপজেলা কমিটি

সরকার বিরোধী আন্দোলনের শক্ত পটভূমি রচনার জন্য দলের সর্বস্তরে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির সকল জেলা এবং উপজেলা-পৌর কমিটি ঢেলে সাজানো শুরু করেছেন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সবগুলো ভেঙ্গে নতুন কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রতিটি কমিটি বিলুপ্তির ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এজন্য গঠন করে দিচ্ছেন আহবায়ক কমিটি। আহবায়ক কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলাধীন সকল থানা-উপজেলা-পৌরসভায় বিএনপির কমিটি করবেন। নতুন কমিটিগুলো হবে সম্মেলনের মাধ্যমে। মাঠ নেতারাই ভোটে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। গত এক সপ্তাহে আট জেলার কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছেন বেগম জিয়া। তৃণমূল নেতাদের তার গুলশান অফিসে এনে কথা বলছেন তিনি। তাদের মতামত নিচ্ছেন। আন্দোলনে কিভাবে সফল হওয়া যাবে তা নিয়ে আলাপ করছেন। মাঠের আন্দোলনে মাঠ নেতাদের অভিজ্ঞতা শুনছেন। তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ঢাকার রাজপথে আগামীতে আন্দোলন কিভাবে সফল করা যায় তাও বেরিয়ে আসছে মাঠ নেতাদের মুখ থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, কমিটি করার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বেগম জিয়া কমিটি ভাঙ্গা গড়ার প্রশ্নে মাঠ নেতাদের কোন ওজর-আপত্তি কানে তুলছেন না। কোন একটি জেলার সঙ্গে মতবিনিময়ের আগেই পুরানো কমিটি ভেঙ্গে নতুন আহবায়ক কমিটি করে দিচ্ছেন। এই আহবায়ক কমিটি তিনি নিজেই আগে ঠিক করে রাখছেন। অত:পর মাঠ নেতাদের সামনে ঘোষণা দিচ্ছেন মাত্র। জানিয়ে দিচ্ছেন যে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে তার সামনে হাজির করতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। প্রায় প্রতিটি তৃনমূল মতবিনিময়ে খালেদা জিয়া বলছেন, নতুন নেতৃত্ব চাই। প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে। পুরানো নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন হবে না। প্রবীণরা পরামর্শ দেবেন। নেতৃত্বে থাকবেন তরুণরা। তারাই সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বললেন, জেলা কমিটিগুলোর অধিকাংশের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেক আগেই কমিটিগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েও নানা কারণে তা কার্যকর করা দুরূহ হয়ে পড়ে। বিএনপির অফিস সূত্রে জানা যায়, দলের ৭৫টি জেলা কমিটির প্রায় সবগুলোই মেয়াদ উত্তীর্ণ। অধিকাংশ জেলায় ’নেতায়-নেতায়’ আধিপত্যের লড়াই-এর কারণে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও বিরোধ মেটেনি। তাই কমিটিও নতুন হয়নি। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চূড়ান্তরকমের থাকায় পটুয়াখালী, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জসহ ১১ জেলায় প্রায় একযুগ কমিটি হয়নি। কোন কোন জেলায় বিএনপির দশা এখন ’ছত্রখান’। কোথাও কোথাও নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটির দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম করলেও কাজ হয়নি। গতকাল ফরিদপুর জেলা বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটির দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সকালে ঢাকা-ফরিদপুর মহাড়কের শিবরামপুরে মানব বন্ধন, সমাবেশ ও শিবরামপুর আজিজ জুট ফাইবার্স-এর সামনে সকাল ১০টায় মাচ্চর ও ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন বি এন পি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। বিএনপির গুলশান এবং নয়া পল্টনের অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতিদিন যে চিঠিগুলো আসে তার একটি বড় অংশ থাকে কমিটি সংক্রান্ত এবং কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ। পুরানো কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি করার দাবি সম্বলিত। গতকাল রাতে সুনামগঞ্জ, ময়মনংসিহ (উত্তর) কমিটি বিলুপ্ত করেন খালেদা জিয়া। ২০ এপ্রিলের মধ্যে বিলুপ্ত হবে চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলা কমিটি।