মঈনুদ্দীন
চিশিত (রহ.)
এর নছীহত
বাণী
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১৮
প্রেমিকের অন্তর প্রেমের আগুনে দগ্ধ হয়ে থাকে, তার মধ্যে অন্য যা কিছু পতিত হয় প্রেমাগ্নি তাও বিদগ্ধ করে দেয়। যার মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকে। সে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার প্রকৃত বন্ধু বলে বিবেচিত হয়। যেমন (ক) সমুদ্রের মত বদান্যতা, (খ) সূর্যের মত দয়া (গ) মাটির মত বিনম্রতা। নদীর স্রোত গতিবেগ প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্ষণে ক্ষণে বিভিন্ন প্রকার শব্দ হয়। কিন্তু যখন তা সমুদ্রে পতিত হয় তখন সেই শব্দ নীরব হয়ে যায়। সত্কার্য অপেক্ষা সত্ব্যক্তিদের সাহচর্য ও সান্নিধ্য অধিক উত্তম এবং অসত্কার্য অপেক্ষা অসত্ লোকদের সাহচর্য ও সান্নিধ্য অধিক গর্হিত। মানুষ ফকীরী ও দরবেশীর যোগ্য তখনই হয় যখন তার এই অস্থায়ী জগতের কোন কিছু অবশিষ্ট না থাকে। আরেফ সেই ব্যক্তি যিনি যখন যা কামনা করেন তখনই তা তার সম্মুখে উপস্থিত হয় এবং যখনই যা কিছু বলেন, তখনই তার উত্তর শুনতে পান। তোমরা পাপকার্য করে এতবেশী পাপের অধিকারী হইও না, যে পরিমাণ পাপ কোন মুসলমানকে অপদস্থ ও অপমানিত করে ছাড়ে। অসত্ব্যক্তির পরিচয় এই যে, সে যে পাপ করে এবং তাকে সে পাপ বলেই মনে করে না। আরেফের লক্ষণ হল, নীরব থাকা। আহলে মারেফাত অর্থাত্ আধ্যাত্মিক পন্থীদের উপাসনা হল প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসে যিকির করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে চিনতে সক্ষম হওয়ার চিহ্ন হল জনসাধারণ হতে পৃথক থাকা এবং মানুষের সাথে কম কথা বলা। যে ব্যক্তি যা কিছু প্রাপ্ত হয়েছে সে দানশীলতার দ্বারাই তা প্রাপ্ত হইয়াছে। প্রকৃত দরবেশ সেই ব্যক্তি যখন কেউ কোন উদ্দেশ্য লয়ে তার নিকট আসে, সে তার নিকট হতে বিরস বদনে বা বিষণ্ন মনে প্রত্যাবর্তন করে না। আরেফের চিহ্ন এই যে, সে মৃত্যুকে পছন্দ করে এবং আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে। আর আল্লাহতায়ালার যিকির করতে অত্যন্ত ভালোবাসে। আল্লাহর আরেফ বান্দাগণ অত্যুজ্জ্বল সূর্যের মত। তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি সমগ্র বিশ্বে পরিব্যাপ্ত এবং তাদের জ্যোতি দ্বারা বিশ্বজগত্ জ্ঞানের আলো প্রাপ্ত। সময়ের মধ্যে সেই সময়টুকুই অধিক উত্তম যখন কারও হূদয় চিন্তা এবং সন্দেহ হতে বিমুক্ত থাকে। কোন ব্যক্তিই নামায ব্যতীত আল্লাহতায়ালার নৈকট্য হাছিলে সক্ষম হয় না। কেননা নামায মে’রাজস্বরূপ। স্মরণ রাখবে নফসের জন্য নিম্নলিখিত চারটি গুণ অপরিহার্য; যথা—(ক) চরম দরিদ্রতার মধ্যে স্বচ্ছলতার ভাব প্রকাশ করা। (খ) পরম ক্ষুধার্ত অবস্থায়ও পরিপূর্ণ পরিতৃপ্তির লক্ষণ প্রদর্শন করা। (গ) অধিক শোক-দুঃখ ও বিষাদের মধ্যেও আনন্দ প্রকাশ করা এবং (ঘ) শত্রুর সাথে বন্ধুত্বের ভাব রক্ষা করা। যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় পবিত্রতা ও আন্তরিকতার সাথে শরীয়তের আদেশ-নিষেধসমূহ পালন করে, সে তরীকতে পদার্পণ করতে সক্ষম হয় এবং ক্রমশ সাধনার দ্বারা মারেফাতের উচ্চ শিখরে আরোহন করতে সমর্থ হয়। যে ব্যক্তি শয়নকালে অজু করে নেয়, নিদ্রার মধ্যে তার আত্মা আরশে মুআল্লার নিকট পর্যন্ত গমন করে এবং সে পাপমুক্ত হয়ে থাকে। নামায বান্দাদের নিকট আল্লাহতায়ালার তরফ হতে আমানত বা গচ্ছিত ধনসদৃশ। সুতরাং পূর্ণ যোগ্যতার সাথে ও পরিপূর্ণভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও হেফাজাত করা প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহর আরেফ ফজরের নামায শেষ করবার পর এশরাক পর্যন্ত জায়নামাযেই বসে থাকে এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া ও মাগফেরাত কামনা করতে থাকে। যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে তার সংসার বিনষ্ট হয় এবং তার বরকত হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে যায়। পার্থিব সংসারের সর্বপ্রকার অভাব-অভিযোগ নিরসনের জন্য অধিক সূরা ফাতিহা পাঠ করা উচিত। সে-ই নির্ভরশীল ব্যক্তি, যে সুখে-দুঃখে কারো নিকট অভিযোগ করে না। যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রেমিক দুঃখ-দৈন্যে কখনও সে বিচলিত হয় না। আল্লাহতায়ালা যাকে অধিক ভালোবাসেন তারই প্রতি দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অভিযোগ বর্ষিত হয়ে থাকে। কবরস্থানে কোন কিছু পানাহার করা ও হাসি-তামাসা করা সর্বোতভাবে নিষিদ্ধ। কেননা তা উপদেশ গ্রহণ করবার স্থান। যারা ঐরূপ কাজ করে তারা প্রকৃতই অভিশপ্ত। হে গাফেল! মৃত্যু আসবার পূর্বে নিজের পাথেয় বা সম্বল সঞ্চয় কর এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাক। পবিত্র কুরআন অবলোকন করা পুণ্যের কাজ। এর একটি অক্ষর দেখার অর্থ দশটি পাপ আমলনামা হতে নির্মূল করা এবং আমলনামায় দশটি পুণ্য সঞ্চয় করা।