লেখকের সাম্প্রতিক...
ভাব, ভাষা ও নির্মাণের দিক থেকে নতুন কিছু করতে চাই
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২৫
সৃষ্টিশীল বইয়ের সঙ্গে পরিচয় পড়তে ও লিখতে শেখার পর, বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে। সেটা ১৯৫৫ সাল। পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে যে সৃষ্টিশীল রচনা থাকে, বাংলা ও ইংরেজি গদ্য-পদ্য সংকলনে, দ্রুতপঠন ও র্যাপিড রিডার-এ, তা থেকেই আগ্রহ-আকর্ষণ শুরু। পাঠ্যবহির্ভূত বই পরিচিত ছিল ‘আউট বুক’ হিসেবে। ওগুলো পড়ার নেশা আমার সেই তখন থেকেই। স্কুলের লাইব্রেরি থেকে সপ্তাহে একদিন সুযোগ দেওয়া হতো আউট বুক পড়ার। সহপাঠী বা সতীর্থদের কাছে কিছু মিলতো, পাড়ার এ-বাড়ি ও-বাড়ি ঘুরেও পাওয়া যেত কিছু। বাবাও বই পড়তেন খুব। পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য ছিলেন তিনি। সপ্তাহে তিন-চারটি বই আনতেন বাসায়। সাময়িক পত্রিকাগুলোও রাখতেন নিয়মিত। আর আমার পিতামহীর তোরঙ্গে ছিল তাঁর অকালমৃত পুত্রকন্যাদের স্মৃতিবাহী জিনিসপত্র, কিছু বই। মাঝেমধ্যে বুকের মধ্যে সযত্নে ধরে রাখা সে বইগুলো পড়তে দিতেন তিনি। পড়তে-পড়তে ভাবতাম, আমার সেই অদেখা চাচা-ফুফুর রুচিশীল পাঠাভ্যাসের কথা। সেই থেকে বই পড়া এক স্মৃতিময় পবিত্রতা হয়ে আছে আমার কাছে।
পড়ার সময় পাই না আর আগের মতো। তাহলেও দুপুরে কিছুটা সময় পড়ার একটা অভ্যাস রয়ে গেছে এখনও। তবে আগের মতো যা পাই তা-ই পড়ি না। এখন বেছে-বেছে পড়ি দরকারি বইগুলো। তবে অন্য এক ভাবে যথেষ্ট বই পড়া হয়ে যায় আমার। প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখার সময় ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় অনেক বই। তখনও নতুন করে পড়া হয়ে যায় অনেক পুরোনো বইও।
কেহ যদি আমাকে জিজ্ঞাস করে, এখন কী পড়ছি? বঙ্কিম-প্রীতির কারণে ছোটবেলা থেকেই আমার বেশি দুর্বলতা ঐতিহাসিক উপন্যাসের প্রতি। সুযোগ পেলেই সংগ্রহ করি ওগুলো, হাতের কাছে পেলে তো ছাড়িই না। এখন পড়ছি ইংরেজ লেখিকা হিলারি ম্যানটেল-এর ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয়টি ‘ব্রিং আপ দ্য বডিস্’ (২০১২)। এটি ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি ও তাঁর প্রধানমন্ত্রী টমাস ক্রমওয়েল-এর জীবন ভিত্তিক উপন্যাস। প্রথমটি ‘উলফ হল’ (২০০৯)। তৃতীয়টি কবে প্রকাশ পাবে জানি না, তবে এই দু’টি উপন্যাসই বুকার প্রাইজ পেয়েছে।
আমার সাহিত্য সংসারে কবিতাই প্রথম ও প্রধান। কিন্তু সে তো আসে না, ধরা দেয় না সবসময়। তাই সে কখনো অধরা। অপেক্ষা করতে হয় তার জন্য। অপেক্ষা করি। এতে কম লেখা হয় কবিতা। হোক। ভাব, ভাষা ও নির্মাণের দিক থেকে নতুন কিছু করতে চাই। এ জন্য একটি নতুন কবিতার জন্য সপ্তাহ-মাস চলে যায়। তবে ওই সময় লেখালেখি বন্ধ থাকে না আমার। প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ফিচার, কলাম ইত্যাদি লিখে চলি নতুন নতুন বিষয়ে। তবে বছর দুই ধরে আর পত্রপত্রিকায় লিখছি না আগের মতো। গত ৫০ বছরে বহু সাময়িকী ও পত্রিকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য লেখা হারিয়ে গেছে আমার। এখন খুঁজে পেতে যা পাচ্ছি তা সঙ্কলিত করে গ্রন্থাকারে প্রকাশের চেষ্টা করছি। নাহলে এগুলোও হারিয়ে যাবে এক সময়। কাজেই লেখালেখির সময়টা আমার যাচ্ছে বইয়ের কাজে—এভাবেই বলা যায়।
৬৭-এ পা দিয়েছি গত ১৪ই এপ্রিল। এ উপলক্ষে আগামীকাল ১৯শে এপ্রিল শনিবার দিনব্যাপী আলোচনা, স্মৃতিচারণ, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও একক গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবের তেতলার হলরুমে। সকালের সমাবেশ পর্বে মোড়ক উন্মোচন করা হবে আমার ‘কবিতা সংগ্রহ’, কলাম সঙ্কলন ‘ম্যাঙ্গো পিপল উবাচ : আমজনতার বয়নবার্তা’ ও একটি স্মরণিকার। দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান কবি মণিশঙ্কর রায়, কবি-নাট্যকার পার্থসারথী গায়েন, কবি-কথাসাহিত্যিক আবদুশ শুকুর খান প্রমুখ। উল্লেখ্য, এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় উপন্যাস, প্রবন্ধ-গবেষণা, শিশুতোষ সহ অন্যান্য বিষয়ে ১২টি বই এসেছে আমার।
গ্রন্থনা : ইমরান মাহফুজ