বিএনপি দেশ ও মানবতার শত্রু

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে মুজিবনগর আম্রকাননে আয়োজিত বিশাল জনসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিএনপি দেশ ও মানবতার শত্রু। তারা স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি বলেই দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মিথ্যাচার করে ইতিহাস বিকৃত করছে। এই গণদুশমনদের রাজনৈতিকভাবে দেশ থেকে উত্খাত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য একাত্তরের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মারা গেছে। কবর থেকে এটা আর ফিরে আসবে না। ২০১৯ সালে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে 11টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন এ জনসভার আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং মুজিবনগর দিবস উপযাপনে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আম্রকাননের শেখ হাসিনা মঞ্চে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন দোদুল, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদিন, সাধারণ সম্পাদক মিয়াজান আলি প্রমুখ। বিএনপিকে দেশ ও মানবতার শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তান বানাতে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হচ্ছে। শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার শত্রুরা ইতিহাস বিকৃত করছে। তবে সত্য ইতিহাসকে কখনোই বিলীন করা যাবে না। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। মুজিবনগর সরকারের অধীনে গঠিত ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের মধ্যে একজন ছিলেন জিয়াউর রহমান। এই সরকারের অধীনেই জিয়াউর রহমান মেজর থেকে ৩/৪ ধাপ প্রমোশন পেয়ে মেজর জেনারেল হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের স্মৃতি চারণ করে তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, মুজিবনগর সরকারের অধীনে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবেই দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এটা সারাবিশ্বের মানুষ জানে। এটা নিয়ে কোন কুলাঙ্গার কি বললো তাতে কিছু যায় আসে না। দেশবাসী তাদের কথা বিশ্বাস করবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অগ্রযাত্রা কেউ যাতে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবস্থান এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যে আন্দোলনের হুঙ্কার দিচ্ছে তাতে কিছুই হবে না। আন্দোলন কিভাবে করতে হয় আওয়ামী লীগ জানে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পাঁচ বছর অপেক্ষা করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মারা গেছে। কবর থেকে এটা আর ফিরে আসবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনসভার আগে বেলা ১১টায় মুজিবনগর স্মৃতি সৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন নেতৃবৃন্দ। বেলা সোয়া ১১টায় পুলিশ ও আনছার সদস্যরা তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এর আগে সকাল ৬টায় মুজিবনগরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সিলেট অফিস জানায়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ বিকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আশফাক আহমদ, আসাদ উদ্দিন, আব্দুল খালিক, ফয়জুল আনোয়ার আলাউর, আবু জাহিদ প্রমুখ। রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন আনুষ্ঠান পালন করে। সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী শহীদ এএইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান, সহ-সভাপতি মীর ইকবাল, নওশের আলী, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আসলাম সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।