কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪৫
শেয়ারবাজারে কিছু কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরপরও বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানিগুলোতেই বিনিয়োগ করছেন। ফলে দাম বাড়ছে আরও বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি পাঠানোর পরও সতর্ক হচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এমনকি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দর বাড়ার কোনো কারণ নেই জানানোর পরও কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা বাজারের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েকদিনের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। ২৮০ টাকা থেকে এক লাফে দাম উঠে যায় ৪৩০ টাকায়। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে ডিএসই কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠায়। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, এ ধরনের কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। এরপরও কোম্পানির দর তর তর করে বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন কেবলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ও সমতা লেদার কমপ্লেক্সেরও দর বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ইস্টার্ন ক্যাবলসের শেয়ার দর ১৩ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে ৬২ টাকা বা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১০৪ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ টাকায়। একই সময়ে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকসের শেয়ার দর ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকায়। এদিকে গত এক মাসে সমতা লেদারের শেয়ারের দাম ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় ডিএসই ও সিএসই (চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ)। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় দর বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই। এরপরও সমতা লেদারের দর বাড়া অব্যাহত থাকে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি মাসেই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকে। কারসাজি চক্র ইনসাইডার ট্রেডিং (নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনা-বেচা করা) ও গুজব ছড়ানোসহ নানা উপায়ে শেয়ারগুলোর দাম বাড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। ডিএসই ও সিএসই তাদের সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব কারসাজির হোতাদের সম্পর্কে তথ্য দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)। বিএসইসি’র নিজেরও রয়েছে সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার। সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যারের তথ্যের ভিত্তিতে বিএসইসি কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা করছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির প্রবণতা।
এ প্রসঙ্গে বিএসইসি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেয়ারবাজারে কিছু কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে ওঠা-নামা করে। আর গুজবের উপর ভিত্তি করে অনেক বিনিয়োগকারী এসব শেয়ার কিনে ক্ষতির শিকারও হন। কিন্তু মাঝে মাঝে লাভবান হওয়ায় এ ধরনের স্ক্রিপ্টে বিনিয়োগ করেন কিছু কিছু বিনিয়োগকারী। তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। কারণ বিএসইসি ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধে কাজ করতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা যদি গুজবের উপর নির্ভর করে শেয়ার কিনে সেক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না।
জানা গেছে, বিভিন্ন নামে পেইজ খুলে ফেসবুকে গুজব ছড়ায় একটি চক্র। এসবের মাধ্যমে আগে থেকেই শেয়ার দর ওঠা-নামার বিষয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়। ইতিপূর্বে বিএসইসি ফেসবুকে এসব গুজব ছড়ানো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।