ব্যয়ের হিসাব দিতে পারেননি ১৭৩ প্রার্থী

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭৩ জন নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি। এ পর্যন্ত ৩৬৯ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। যেসব প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি তাদের নাম উল্লেখ করে তথ্য চেয়ে সকল রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি। তবে যেসব প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছেন তাদের সম্পর্কেও ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৭টি তথ্য চেয়ে গত বুধবার রিটার্নিং অফিসারদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি তাদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী দুই থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে জানান, আইনানুযায়ী যেসব প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাতায় ৩৬৯ জনের ব্যয়ের হিসাবের অনুলিপি তালিকাভুক্ত আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালের নবম অধ্যায়ের ১১ দফায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী/পরাজিত সব প্রার্থীর জন্যই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদেরকেও এ হিসাব দাখিল করতে হবে। এমন কি কোন প্রার্থীর নির্বাচনে কোন ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে উল্লে¬খ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই বিধান লংঘনের শাস্তি আরপিও’র ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে দুই থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪৭ আসনে ৩৮৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাকি ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২-এর ৪৪-সি অনুচ্ছেদের (১) বিধান অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত ফরমে এফিডেভিটসহ সংশ্লি¬ষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে।