চট্টগ্রামের এইট মার্ডার মামলা

হাইকোর্টে খালাস পেলেন ৪ ফাঁসির আসামি

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বহুল আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আব্দুল হাই ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। রায়ে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন খান ওরফে সাজ্জাদ, আলমগীর কবির ওরফে মানিক, আজম ও মো. সোলায়মান। ২০০০ সালের ১২ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে মাইক্রোবাসে করে যাওয়ার পথে শিবিরের নেতা-কর্মীরা ওই গাড়ি লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হামলায় আট জন নিহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি ‘এইট মার্ডার’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। মামলায় আসামি করা হয় ২২ জনকে। বিচার চলাকালে দুইজন আসামি মারা যান। রাষ্ট্রপক্ষের ৪৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২০০৮ সালে চারজনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় দেন। রায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন চার আসামি। একই সঙ্গে ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান রুবেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম আজাদ এবং আসামি পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, এডভোকেট মিজানুর রহমান শুনানি করেন। ডেথ রেফরেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে খালাস দেয়। মনিরুজ্জামান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পেলো। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।