গণজাগরণ মঞ্চের অপহূত কর্মী ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

অপহরণের ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলেন গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজিজুল হায়াত খান কনক। তবে কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে কনককে অপহরণ করেছিল সেই বিষয়ে মুখ খুলছে না কনক কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন তিনি। কনকের বরাত দিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে অপহরণকারীরা কনককে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির বিপরীত দিকের পান্থপথের ফুটপাতে একটি চায়ের দোকানের পাশে ফেলে যায়। এক চায়ের দোকানদার কনককে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার পরিচয় জানতে চায়। সে সময় কনক তার ভগ্নিপতি সোহেল পারভেজের মোবাইল নম্বর দিয়ে তাকে আসতে বলতে বলেন। সেই চায়ের দোকানদার সোহেল পারভেজকে বিষয়টি জানালে তিনি কলাবাগান থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কনককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালের নিউরো সার্জারী বিভাগের ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন তিনি। সেখানকার চিকিত্সক ডা. পীযূষ সাংবাদিকদের জানান, কনক সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত। তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু কনক তাদেরকে জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা তার মাথায় আঘাত করেছে। তাই বিশেষভাবে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অপহরণের বর্ণনা দিয়ে কনকের মামা আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে কনক তাদেরকে জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অপরিচিত কয়েকজন যুবক সিগারেটের আগুন নিয়ে তার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ঐ যুবকরা তাকে জোর করে কোমল পানীয় পান করায়। এরপর তাকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে একটি বাড়ির মধ্যে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন। কে বা কারা কেন তাকে অপহরণ করলো সেই বিষয়ে কনক তাদেরকে কিছু বলেননি বলে দাবি করেন তার মামা। তবে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, কনকের ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। কনক নিখোঁজের ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল ঢাবি’র প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। আজিজুল হায়াত কনক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি জিয়াউর রহমান হলের ২২৫ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র। কনকের পিতা নূরুল হোসেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল গ্রামে।