আশান্বিত হওয়ার মতো কিছু নেই :রিজওয়ানা
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০০
স্বামী আবু বকর সিদ্দিক অপহূত হওয়ার একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সার্বিকভাবে আশান্বিত হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে আমি সমর্থন পেয়েছি। আবু বকর সিদ্দিককে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী। গতকাল রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্র্যাক সেন্টার ইনে নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীকে অপহরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে তাকে উদ্ধার ও দোষীদের বিচারের জন্য যথাযথ পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের ৪৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, চেয়ারপারসন ড. হামিদা হোসেন, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না দিতে পারলেও নিরাশ হওয়ার মতো কোনো কিছু বলেনি। তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে স্বামী আবু বকরের কোনো বিরোধ ছিলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সবাই যার যার স্বার্থ অনুযায়ী কথা বলে। নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে আমার স্বামীর সম্পর্ক বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো। তাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালানোর দায়িত্ব সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে আমার স্বামীর উপর ছেড়ে দিয়েছিলো। আমার স্বামীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যবসায়িক পর্যায়ে কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব আছে বলে জানা নেই।
আবু বকর সিদ্দিককে অপহরণের পর তার কাছে হুমকি দিয়ে কোনো ফোন কল এসেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হুমকি-ধামকি দিয়ে কোনো ফোন কল আসেনি। তবে অপরিচিত কিছু সোর্স থেকে ফোন কল আসছে। তারা নানাভাবে আমাকে তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছেন। এসব কথা যাদের বলা প্রয়োজন তাদেরকে বলেছি। আমার কাছে কেউ চাঁদা চেয়ে বা অপহরণের মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করেনি।
কোনো কোম্পানির বিষয়ে অভিযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এজাহারে আমি কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করিনি। পরিবেশ আন্দোলনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালিয়েছি। এ কারণে অনেক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত লেগেছে। তাদেরকে যেন তদন্তের বাইরে রাখা না হয় এটা বলেছি। তবে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করিনি।
তিনি বলেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটা এক ধরনের হুমকি আমার জন্য ছিলো। কিন্তু তিস্তা নিয়ে আন্দোলনে আমার উপর কোনো হুমকি ছিলো না।
সুলতানা কামাল বলেন, রিজওয়ানা হাসানের স্বামী অপহরণ হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আস্থা রাখছি যে, তারা অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় আবু বকর সিদ্দিককে ফিরিয়ে আনতে পারবে। তাদের মনে রাখা উচিত, তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনী। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন তারা যেন স্মরণে রাখেন এটা তাদের রাষ্ট্রীয় নৈতিক দায়িত্ব। তারা ব্যর্থ হলে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
আবুল মকসুদ বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মীর স্বামী অপহরণের ঘটনা বড় উদ্বেগের বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে সুস্থ ও নিরাপদভাবে উদ্ধার করবে বলে আশা করি।
আবু বকরকে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় বিশিষ্টজনরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আস্থাহীনতার সংকটের মুখে ফেলেছে। সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ও এসএমএস বার্তার মাধ্যমে সংহতি জানানো বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অব ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ল’র পরিচালক ড. শাহদীন মালিক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর, সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ প্রমুখ।