গল্প নয় সত্যি

কেঁচো খুড়তে সাপ...

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ক্যাসেলবেরিতে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনের আর দশটা দিনের মতোই টহল দিতে এসেছিলেন স্থানীয় কাউন্টি শেরিফের এক ডেপুটি। আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে কাজ করা এই ডেপুটি গ্যাস স্টেশনে ঢোকা মাত্রই স্টেশনের এক কর্মীকে গ্যাস স্টেশন ছেড়ে যেতে থাকা একটি গাড়ির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে দেখেন। জানতে পারেন, একটু আগে ক্রিস্টিনা হাইনস নামের ৩০ বছর বয়সী যে মহিলা এই স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়েছেন তিনিই ভুলবশত সেখানে পঞ্চাশ ডলার ফেলে গেছেন। বিষয়টি জানার পর নিজে থেকেই উদ্যোগী হয়ে ওই মহিলাকে টাকাটা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই ডেপুটি। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সাথে সাথে ওই গাড়ির পিছুও নেন। তবে গাড়িটির খুব কাছাকাছি পৌঁছার পর অনেকটা কৌতূহল বশতই গাড়িটির নম্বর পে¬ট এবং এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছিলেন ওই ডেপুটি। আর এভাবে তথ্য যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে যে, মিসেস হাইন্সের লাইসেন্স অনেক আগেই স্থগিত করা হয়েছে। এ পর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়ার চিন্তা দূরে সরিয়ে রেখে অনেকটা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পুলিশের সাইরেন বাজিয়ে তার পিছু নেন ওই ডেপুটি। আর পুলিশের এই সাইরেন শোনা মাত্রই আগের চেয়ে গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মিসেস হাইন্স। এভাবে গতির খেলায় দু’দফা পুলিশের প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে অবশেষে গ্রেফতার হন মিসেস হাইন্স। আর লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালনার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল¬াশীর এক পর্যায়েই বেরিয়ে আসে আরও ভয়ানক তথ্য। হাইন্সের গাড়ি থেকে সন্ধান মেলে হিরোইন আর মাদক গ্রহণের জন্য ব্যবহূত হাইপোডার্মিক নিডলও। সবমিলিয়ে, ভালো একটা কাজের জন্য বেরিয়ে আইনের চোখে খারাপ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিল শেরিফের ডেপুটির সেদিনের সেই মিশন।