রবীন্দ্রনাথের গান গাইতেন নজরুল

লিয়াকত হোসেন খোকন

 

১৯১৯-এর শেষদিকে শৈলজানন্দের মেসে কিছুদিন কাটিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে (কলকাতা) এসে উঠলেন। এখানে নজরুলের প্রথম দিন সম্বন্ধে মুজফ্ফর আহমেদ লিখেছেন—‘কাজী নজরুল ইসলাম যেদিন প্রথম ৩২ নং কলেজ স্ট্র্রিটে থাকতে এসেছিল সেদিন রাত্রেই তাকে দিয়ে আমরা গান গাইয়ে নিয়েছিলাম। ...তখনকার দিনে নজরুল সাধারণত রবীন্দ্রনাথের গানই গাইত, কিন্তু সেদিন সে গেয়েছিল, ‘পিয়া বিনা মোর জিয়া মানে বদরী ছায়ী রে।’

একবার পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বাক্ষর করে ‘বসন্ত’ নাটকটির একটি কপি নজরুলকে পৌঁছে দিতে বলেন। তিনি আরো বলেন ‘তাকে বোলো আমি নিজের হাতে তাকে দিতে পারলাম না বলে সে যেন দুঃখ না করে।...আর বোলো কবিতা লেখা যেন কোনো কারণেই সে বন্ধ না করে। সৈনিক অনেক মিলবে, কিন্তু যুদ্ধে প্রেরণা জোগাবার কবিও তো চাই।’

১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের  আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে নজরুল লিখলেন, ‘অশ্রুপুষ্পাঞ্জলি’—‘ধ্যান-শান্ত মৌন তব কাব্য-রবিলোকে সহসা আসিনু আমি ধূমকেতু-সম’। আশ্চর্য রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর এক বছরের মধ্যেই নজরুল হলেন চিরতরে অসুস্থ ও সংবিতহারা।