নাজিরপুরে দখলদারদের
কবলে ৩শ’ বছরের পুকুর
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৮
জেলার নাজিরপুর উপজেলা সদরের অদূরে শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের ৩শ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুর এখন দখলদারদের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখল হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংরক্ষণবাদী বিশ্বাসের আধার, কালিবাড়ী বাজারের এ জলাধারটি। যার অবস্থান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ও নাজিরপুর থানা ভবনের আধা-কিলোমিটারের ভেতরে। ওই পুকুরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য কেউ গোসল বা ধোলাই-পরিচ্ছন্নতার কাজ পর্যন্ত করতেন না। বিভিন্ন রোগসহ প্রসূতিদের রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের জন্য ভক্তিসহ অনেকে পুকুরটির পানি পান করে সুস্থতা লাভ করায় তা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থানে পরিণত হয়। তাছাড়া পুকুরটির উত্তর পাড়ে রয়েছে একটি জামে মসজিদ। মসজিদের মুসল্লিরা পুকুরের ঘাট থেকে অযু করেন। কিন্তু সরকার দলীয় প্রভাবশালী একটি মহল ঐতিহ্যবাহী এ পুকুরটি ভরাট করে দোকানঘর বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে তারা পুকুরের জায়গায় দোকানের ভিটি বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এতে করে ৩শ’ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিলীন হতে চলছে। পুকুরটি এভাবে বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনা শুনে এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বৃটিশ আমলে পিরোজপুরের রায়েরকাঠীর জমিদার রুদ্র নারায়ন রায় চৌধুরী জনসাধারণের নিরাপদ পানির সুবিধার্থে ৮২ শতক জমির উপর পুকুরটি খনন করেন। তখন থেকেই স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে জনসাধারণ উক্ত পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতেন। স্থানীয় জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রফুল্ল কুমার মালি বলেন, ‘পুকুরটি আনুমানিক ৩শ’ বছরের পুরানো। আমি ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি প্রতিদিন এই পুকুর থেকে শত শত নারী-পুরুষ পানি সংগ্রহ করতেন। ওই পুকুরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য কেউ গোসল বা ধোয়া-পালার কাজ করতেন না। কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ প্রসূতিদের রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের জন্য এক ধরনের ভক্তি সহকারে মানুষ পুকুরের পানি পান করতেন। এভাবেই পুকুরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীয় মানুষের কাছে তীর্থস্থানে পরিণত হয়।’
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, পুকুরটি ভরাট করা হবে না।