তিন জেলায় কালবৈশাখী
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৮
গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাপাসিয়ায় আহত হয়েছেন ২০ জন। সড়কে গাছ ভেঙে পড়লে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঝড়ের দাপটে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট, ঘর-বাড়ি, গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। শিলাবৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর বোরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে এখনো বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কাপাসিয়া সংবাদদাতা জানান, ঝড়ে গ্রামের বাড়ি-ঘর, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছ-পালা উপড়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। শিলা বৃষ্টিতে ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জানা যায়, উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী, নয়া সাংগুন, সুলতানপুর, কুশদি, টোক ইউনিয়নের পাঁচুয়া, গোষের কান্দি, বীর উজলী, ভেংগুরদি ও রায়েদ ইউনিয়নের বেলাশীসহ বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী বয়ে যায়। এসময় অধিকাংশ মানুষ ছিল ঘুমিয়ে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, হঠাত্ ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে শ্রীনগর ও কামারকান্দা গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ি-ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুত্ সংযোগ নেই।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নে ঝড়ে আটটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। গ্রামগুলো হচ্ছে, উত্তর পূর্বচর, দক্ষিণ পূর্বচর, দশপাখি, চরকাউনিয়া, দক্ষিণ লোহাজুরী, উত্তর লোহাজুরী, বাহের চর, জিরার পাড়। প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধস্ত হয়। প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে পাঁচ শতাধিক একর বোরো জমির ফসল নষ্ট হয় এবং কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উক্ত গ্রামগুলোর হাজার হাজার গাছ-পালা ভেঙে যায়। পূর্বচর পাড়াতলা আব্দুল হেকিম কারিগরি কলেজের একটি ভবন ও দেয়াল ভেঙে পড়ে। ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। লোহাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হায়দার মারুয়া জানান, শতশত মানুষ খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, ঝড়ের সময় তিন শতাধিক কাঁচা ঘর, পাঁচশ গাছপালা, তিন সহস্রাধিক একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত বারটার দিকে হঠাত্ বিকট শব্দে শুরু হয় ঝড়। এর পরপরই শুরু হয়ে যায় শিলাবৃষ্টি। ঝড়-বৃষ্টি প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আজদু মিয়া ও জয়নাল মিয়া বলেন, শিলের আঘাতে প্রায় তিন সহস্রাধিক একর জমির পাকা ধান গাছ থেকে পড়ে গেছে। আর ৪/৫ দিন পর কৃষকরা ধান কেটে বাড়িতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কৃষকরা এখন দিশেহারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, শিলা বৃষ্টিতে তিন হাজার ৫৯৩ হেক্টর বোরো জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ঝড়ের কবলে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝড়ে উপজেলার শাহজাদাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, জয়দরকান্দি আলিম উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শাহজাদাপুর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাকাঁচা ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের পর পুরো উপজেলায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়। উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ছয়সূতী, সালুয়া ও ফরিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সালুয়া ইউনিয়নের দড়িগাঁও, ডুমরাকান্দা, ফরিদপুরের বিভিন্ন মাঠে ও ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী, কলাকোপা, মাধবদী, লালপুর, আকবর নগরসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকের গোলায় কোন বোরো ধান উঠবে না। তাছাড়া পৌর এলাকার দোয়ারিয়া ও টিয়াকাটা এলাকায় বোরো ধানের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির পর কৃষকরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, তাদের এই জমিগুলোতে বিঘা প্রতি ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।