বুড়িমারী স্থলবন্দর কার্যত অচল
আজিজুল হক দুলাল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১০
ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি আর ১৯টি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বুড়িমারী স্থলবন্দর। ফলে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এই স্থলবন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অন্য ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন। কমে গেছে রাজস্ব আয়।
বন্দর ব্যবহারকারী আমদানি-রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ১৯টি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলেও দেশের অন্য স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ফলে এক সময় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড থাকলেও বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ১০ কোটিতে।
জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সাধারণত ভারতে মাত্র ৩/৪টি পণ্য রপ্তানি ও প্রায় ২২/২৩টি পণ্য আমদানি করা হয়। বিশাল এ বাণিজ্য ঘাটতি দিন দিন বুুড়িমারী স্থলবন্দরকে গুরুত্বহীন করে তুলছে। এদিকে ২০০৯ সালে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ডুপ্লেক্স বোর্ড, নিউজপ্রিন্ট, ক্রাফট পেপার, সিগারেটের পেপার, মাছ, সূতা, জুস, গুঁড়াদুধ, ট্যোবাকো, আলু, সিরামিক ওয়্যার, মিক্সড ফেব্রিক্সসহ ১৯টি পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার। প্রয়োজনীয় অফিস, গুদাম, ওয়্যার হাউজ না থাকায় ওই সময় পণ্যগুলো আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যাগুলো কাটলেও পাঁচ বছরেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন, সায়েদুজ্জামান সায়েদ, রুমেল ও পরাগ বলেন, ‘ভুটানী পণ্য আমদানিতে শুল্ক ফ্রি হওয়ায় এখানে রাজস্ব আয় হয় অনেক কম। সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া পণ্যসমূহ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো হলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় অনেক বৃদ্ধি করা সম্ভব।’
বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল বলেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার আন্তরিক। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন। ব্যবসা বৃদ্ধিতে আমরাও চেষ্টা করছি।’
এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) সোহেল রানা বলেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক পরিবেশ-পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামো রয়েছে। এ বন্দর দিয়ে ১৯টি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে লক্ষ্যমাত্রার কয়েকগুণ বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।’