চট্টগ্রামে ৪ নারী ছিনতাইকারী গ্রেফতার

তারা চার বান্ধবী। বয়স ১৮ থেকে ২৬ এর মধ্যে। মোটামুটি সুশ্রী। পোশাকে আশাকে চারজনই আধুনিকা। সবাই বিবাহিত। স্বামী, সংসার, সন্তান-সন্ততি সবই আছে। বাসায় ঢুকলে বোঝা যায় আর্থিকভাবে সচ্ছল চারজনের পরিবারই। তবে এই সচ্ছলতা এসেছে অবৈধ পথে। নগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে-শাদীসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে সুযোগ বুঝে অতিথিদের মোবাইল ফোন, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ, ঘড়ি, স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতো তারা। মুহূর্তেই তা হাতবদল হয়ে চলে যেতো বাইরে অপেক্ষমাণ পুরুষ সঙ্গীদের কাছে। পুরুষরা চোরাই পণ্য এনে জমা দিতো তাদের দলনেত্রীর কাছে। দলনেত্রীর বাসা নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায়। সে নিজেকে কখনো পরিচয় দেন মানবাধিকার নেত্রী হিসেবে আবার কখনো সাংবাদিক হিসেবে। এভাবেই প্রচুর টাকা-পয়সার মালিক হয়েছে তারা। তবে কথায় বলে চোরের দশদিন সাধুর একদিন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার কিং অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে আদনীন আরা চৌধুরী নামে এক তরুণীর ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে দুটি দামি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল। তরুণী বিষয়টি পাঁচলাইশ থানায় অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাগ চুরির কথা স্বীকার করে। একপর্যায়ে তারা আরো স্বীকার করে যে, চুরি করা ব্যাগটি তাদের এক সাগরেদের মাধ্যমে দ্রুত তাদের লিডার কথিত মানবাধিকার নেত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এসআই মিজান ব্যাগসহ ৪০ হাজার টাকা ও আইফোন ফোর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, তাদের সাজ পোশাক দেখে অত্যন্ত ভদ্র পরিবারের মেয়ে বলেই মনে হয়। তবে তাদের কাজ ছিল সুন্দর পোশাক পরে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া। সুযোগ বুঝে তারা মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার চুরি করতো। মূলত কাজটি করতো মহিলারা। এ কাজে তাদের স্বামীরাও সহযোগিতা করতো। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে জড়িত। তাদের বাসায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন রুমে দামি দামি জিনিস দেখা গেছে। আটক চার নারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি জানান।