কিসমিস ফোডিং মডেল

গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান মাধব রায় সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিদ্যা) ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট খেয়ে দেয়ে আকাশ নীলকান্তবাবুকে আবার এসে ধরলো। মামা, তোমার যে কী ভুলো মন ! পরমাণু সম্পর্কে বললে না ? অণু তো বোঝলাম। নীলকান্তবাবু হাসলেন। বললেন, হ্যাঁরে ভুলেই তো গেছি। পরমাণু হলো অণুর ক্ষুদ্রতম অংশ। অণুকে ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায়। ভাঙলে মানে তুই তো আবার টুকরা করা হলে বুঝবি। না মামা, ভাঙলে মানে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করলে বুঝবো। হ্যাঁ। অণুর ক্ষুদ্রতম অংশ হলো পরমাণু। পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না। বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ফেলে। কিন্তু অণু স্বাধীনভাবেই থাকতে পারে। কিন্তু পরমাণু দেখতে কী রকম ? বললো আকাশ।পরমাণু তো দেখতে পারা যায় না, আকারে খুব ছোট। এক সেন্টিমিটারের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ। তাহলে মানুষ বুঝলো কী করে ? পরীক্ষার মাধ্যমে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে একে একটা কণার মতো দেখা যায়, তাও দশ লক্ষগুণ বড় করে। দেখতে পারা যায় না, তবে এর গঠন অনুমান করা যায়। লর্ড রাদারফোর্ড নামে নিউজিল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী 1911 সালে পরমাণু কী রকম এর একটা ব্যাখ্যা দেন। রাদারফোর্ড বলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে রয়েছে ধনাত্মক আধানযুক্ত নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসে আছে প্রোটন ও নিউট্রন। আর কেন্দ্রের বাইরে থাকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণিকা ইলেকট্রন। ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারদিকে স্থির অবস্থায় থাকে। এই কথা বলার আগে তিনি 1909 খ্রিষ্টাব্দে একটি পরীক্ষা করেন। এর নাম আলফা কণা বিক্ষেপণ পরীক্ষা। তাঁর দুইজন সহকর্মী গাইগার ও মার্সডেন এই পরীক্ষা চালিয়ে ছিলেন। আলফা কণা দিয়ে স্বর্ণের মতো ভারি ধাতুর পাতকে আঘাত করে দেখা যায়, একটা পাতলা পর্দায় আলোকপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বোঝা যায় আলফা কণা মাঝখান থেকে ফিরে আসছে। অর্থাত্ মাঝখানে অন্য কোনো ধনাত্মক কণা আলফা কণাকে বিকর্ষণ করছে। এই ধনাত্মক কণাই নিউক্লিয়াস। বুঝলাম না। বুঝলি না ? আলফা কণা হলো ধনাত্মক। আর ধনাত্মক কণা আরেকটি ধনাত্মক কণাকে বিকর্ষণ করে। মানে দূরে ঠেলে দেয়। আর ঋণাত্মক কণাকে আকর্ষণ করে। যেহেতু আলফা কণা ফিরে এসে আলোকপ্রভা সৃষ্টি করে, কাজেই এটি বিকর্ষিত হয়েছে। অর্থাত্ কেন্দ্রেও ধনাত্মক কণা রয়েছে। আকাশ কিছু বলছে না, মন দিয়ে শুনছে। নীলকান্তবাবু বললেন—এরপর রাদারফোর্ড তাঁর মত পরিবর্তন করে বললেন, ইলেকট্রনগুলো স্থির নয়। নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। ঠিক যেমন সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। আকাশ আশ্চর্য হলো। পরমাণুর মধ্যেও সৌরজগতের মতো কক্ষপথ আর সেই কক্ষপথে গ্রহের মতো ইলেকট্রন ঘুরছে ! সে বললো— ভারি ইন্টারেস্টিং তো ! আচ্ছা। মামা, আমি এই যে কলমটা হাতে নিয়ে আছি, এতেও কি পরমাণু আছে? এতেও কি ইলেকট্রনগুলো ঘুরছে? হ্যাঁ, অবশ্যই। সকল পদার্থেই পরমাণু আছে, আর পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো ঘুরছে। তাহলে আমরা টের পাচ্ছি না কেন? আমরা তো প্রথমে টের পাবোই না। পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে আমরা কি টের পাচ্ছি ? না কি প্রথমে টের পেয়েছি ? মাথা নাড়লো আকাশ। বিষয়টা তার মনে ধরেছে। গল্পের পরের অংশ আগামী রবিবার