গল্প নয় সত্যি
মধুর প্রতিশোধ!
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৩৩
প্রায় বছর তিনেক আগের কথা। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে ভুল বুঝাবুঝি আর অফিসের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে না পারার কারণে একরকম ক্ষোভের বশেই চাকরি ছেড়েছিলেন সাংহাইয়ের অধিবাসী জিয়াং। কিন্তু চাকরি ছাড়ার সময় বকেয়া পাওনা হিসেবে যে ৩০০০ আরএমবি (প্রায় ৪৮২ ডলার) অফিসের কাছ থেকে তার পাওয়ার কথা ছিল সেটা কিছুতেই ছাড় করছিলেন না জিয়াংয়ের বস বিং। তার সাফ কথা, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থই পাওনা নেই জিয়াংয়ের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার আলাপ-আলোচনা হলেও জিয়াংয়ের যুক্তি কিছুতেই মেনে নিচ্ছিলেন না বিং। অন্যদিকে জিয়াংও তার পাওনার বিষয়ে ছিলেন অবিচল। কিন্তু তিন বছরের অনেক দেন-দরবারের পরও যখন তার বস পাওনা টাকা নিয়ে গড়িমসি করছিলেন তখনই মধুর এক প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন জিয়াং। চ্যাং নামের স্থানীয় এক খামারির কাছে ৩০০০ হাঁসের বাচ্চা অর্ডার দিয়ে সেগুলো পাঠাতে বলেন বিংয়ের অ্যাপার্টমেন্টে। চুক্তি মোতাবেক চ্যাং নামের ওই খামারিও নির্ধারিত দিনে হাজার তিনেক হাঁসের বাচ্চা নিয়ে হাজির হন বিংয়ের অ্যাপার্টমেন্টে। বাচ্চাগুলো সেখানে ছেড়ে আসার পরই তিনি অর্থের জন্য জিয়াংয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে জিয়াং তাকে পাওনা পরিশোধ না করে যোগাযোগ করতে বলেন বিংয়ের সাথে। এ অবস্থায় ঘটনাটি গোলমেলে বলে মনে হওয়ায় চ্যাং কোনোরকম দেরি না করেই বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতাতেই চ্যাং’কে পরিবহন খরচ দেওয়ার বিনিময়ে বাচ্চাগুলো ফিরিয়ে নিতে রাজি করান বিং। এ ছাড়া তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে হারিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি বাচ্চা বাবদ বাড়তি কিছু অর্থও পরিশোধ করেন বিং। এদিকে জিয়াংয়ের এই মধুর প্রতিশোধের পর বিষয়টিতে এখন সম্পৃক্ত হয়েছে স্থানীয় পুলিশও। তারা ইতোমধ্যেই জিয়াংকে তার পাওনা সংক্রান্ত প্রমাণাদি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন।