তেপ্পান্ন হাজার নকল জাতীয় পরিচয়পত্র

মোবাইল ফোনের সিমকার্ড কিনতে এখন জাতীয় পরিচয়পত্রকে অনেকটাই অপরিহার্য করে ফেলেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র এখনো পরীক্ষা করতে পারে না অপারেটররা। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ এখনো তাদের দেয়া হয়নি। আর এই সুযোগে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবসা খুলে বসেছে একটি চক্র, যারা টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র। এমনই ৫৩ হাজার নকল পরিচয়পত্রসহ রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার পাসপোর্ট সাইজের ছবি। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম জানান, যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেন, আমিনুল ইসলাম মামুন (২৩) এবং তৌফিক ইসলাম (২৫)। তারা খুচরা মোবাইল সিম বিক্রেতার কাছে এসব পরিচয়পত্র এবং ছবি প্রতিসেট ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি করে। আর খুচরা বিক্রেতারা যেসব সিম কোন পরিচয়পত্র ছাড়া বিক্রি করে থাকেন তার বিপরীতেই এসব ভুয়া পরিচয়পত্র ও ছবি দেখানো হয়। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানান, এই পুলিশ কর্মকর্তা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি’র উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক হোসেন ও মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এম এ সাঈদ। মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি কিংবা অন্য কোনো ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গ্রাহকরা মোবাইল ফোনের সিম কিনতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রায়ই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া তথ্যে নেয়া এসব সংযোগ চাঁদাবাজি, হুমকি, সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহূত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এ ব্যাপারে আগে থেকেই তত্পর ছিল। মনিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কদমতলী থানা পুলিশ পূর্ব ধোলাইপাড় পদ্মা ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সামনে থেকে আমিনুল ইসলাম মামুনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে চার হাজার ৬৫০টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সমসংখ্যক ছবি পাওয়া যায়। পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জানা যায়, তৌফিক ইসলাম নামে টঙ্গীর এক ব্যক্তি তার সঙ্গে এ কাজে জড়িত। পরে তাকে নিয়ে পুলিশ টঙ্গীর আরিচপুর বাজার এলাকার শেরেবাংলা রোডের ৮ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৮ হাজার ৪৫০টি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং ৩১ হাজার ৬৫০টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি উদ্ধার করে। ওই অভিযানে একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, ১৫টি এয়ারটেল ও আটটি বাংলালিংক সিম, প্রিন্টারে ব্যবহূত বিভিন্ন রংয়ের কালি উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে যুগ্ম কমিশনার বলেন, এই চক্রটি চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ছবি ও কিছু অসাধু স্টুডিও ম্যানেজারদের কাছ থেকে ছবি সংগ্রহ করে। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর মিলিয়ে তারা এই কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, এই চক্রের মূল হোতা আটককৃত তৌফিক। আর সরবরাহকারী আমিনুল ইসলাম। তারা জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরো কিছু সদস্যের নাম বলেছে এবং তারা এই কাজ গত দেড়মাস ধরে করে আসছে। তিনি বলেন, পুরো এই জালিয়াত চক্রকে আমরা আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি। আর এই ঘটনায় কদমতলি থানায় জালিয়াত ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর মামলাটি তদন্ত করবে দুদক।