রাজধানীতে ২৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ফার্মভিউ সুপার মার্কেটে ‘নিউ কল্পনা জুয়েলার্সের’ দেয়াল কেটে ২৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা লুট হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে দোকান খুলে বিষয়টি জানতে পারেন মালিক। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মার্কেটের দুই নিরাপত্তারক্ষী ও দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার বা জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, এটা চুরির ঘটনা। জড়িতদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি, পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। শিগগিরই চোর ধরা পড়বে বলে আশা করছি। নিউ কল্পনা জুয়েলার্স-এর মালিকের ছেলে মাধব পাল জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে চলে যান। শনিবার সকাল ১০টায় দোকান খুলে দেখেন, ভিতরে সবকিছু এলোমেলো। ক্যাশবাক্স বের করে শো-কেসের ওপর এনে রাখা হয়েছে। তাতে কোনো টাকা নেই। শো-কেসগুলো পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে। পর্দা সরিয়ে দেখেন, কোনো গহনা নেই। পিছনের দেয়াল ভাঙ্গা থাকার বিষয়টিও এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন। মাধব পাল বলেন, আমাদের ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। এ ছাড়াও টাকার বিনিময়ে বন্ধক নেয়া ৮০ ভরি স্বর্ণালংকারও দোকানে ছিল। ক্যাশ বাক্সে ছিল গহনা বিক্রির সাড়ে সাত লাখ টাকা। এর কিছুই রেখে যায়নি চোর। পাশের দোকানের নতুন ভাড়াটে এবং দোতলার নিরাপত্তা কর্মীরা চুরিতে জড়িত বলেও ধারণা করেন মাধব পাল। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিউ কল্পনা জুয়েলার্সের পেছনের দোকানটির নাম ই এস ইলেক্ট্রনিক্স। চুরিতে জড়িতরা এই দোকানেই অবস্থান করেছেন। দোকানের ভিতরে বিস্কুুট, পানির বোতল, শাবল, হাতুড়ি ইত্যাদি পাওয়া গেছে। মার্কেট বন্ধ হওয়ার পর এ পাশ থেকেই দেয়াল কাটা হয়। তবে কাটা অংশটি তেমন বড় নয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চুরিতে কোনো প্রশিক্ষিত শিশুকে ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা অস্বাভাবিক রোগা ব্যক্তিও এ কাজ করে থাকতে পারে। ফার্মভিউ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, রাতে মার্কেট বন্ধ করার পর কারও ভিতরে ঢোকা বা বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। আমরা ধারণা করছি, চোরদের একটি দল রাতে দোকানেই অবস্থান করছিল। স্বর্ণালংকার চুরি করে শনিবার সকালে মার্কেট খোলার পর অন্য ব্যবসায়ীরা আসার আগেই তারা বেরিয়ে যায়। শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, চুরির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে স্বর্ণের পরিমাণ ১০০ ভরির মতো বলে আমরা শুনেছি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মার্কেটটির দোতলার নিরাপত্তাকর্মী প্রবীর ও আশিস এবং ব্যবসায়ী মিলনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার ও মার্কেটের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে গতকাল দিনভর ধর্মঘট পালন করেন সেখানকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।