স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা

অনিয়ম যে কারণে-

স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। গত ৫ বছরের এমন অনেক ঘটনা সমপ্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তঅ নজরে এসেছে। দেখা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জড়িত। স্বাস্থ্যখাত জরুরি সেবাখাত বলে এই বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্রয় সংক্রান্ত কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিতে পারেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পারেন ১০ কোটি টাকা ছাড় করতে। এই ক্ষমতারই অপব্যবহার করে টাকা আত্মসাত্ করা হচ্ছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে সামগ্রিক অনুসন্ধান চালালে আরো অনেক বেশি অনিয়মের ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। কালাজ্বর প্রবণ এলাকার জীবাণুবাহক স্যান্ডফ্লাই (বেলে মাছি) নিধনে কীটনাশক সরবরাহ নিয়ে বিতর্কিত শর্তারোপের ঘটনায় এমনিতেই ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন তিনি প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিককে। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। লাইন ডিরেক্টররা কেনাকাটার নামে অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা কৌশলে মহাপরিচালকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকার অনুমোদন নিয়ে থাকে। গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রকল্পে কেনাকাটার নামে অনিয়ম ধরা পড়ায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পুনরায় স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কেনাকাটার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিন্ডিকেট ১০০ কোটি টাকার চিকিত্সা সামগ্রী কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ দেয়া হলে তা ১০ ভাগ কিংবা ৫ ভাগে ভাগ করে প্রকল্প করে নেয়। যার কারণে ওই সব প্রকল্পের কেনাকাটার ফাইল মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত পাঠানোর দরকার হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুভাস কুমার সাহা, পরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন ও হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান এবং পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে মহাপরিচালকের অনুমোদন সাপেক্ষে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে এ, বি ও সি ক্যাটাগরি করে দেয়া হয়েছে। এ ক্যাটাগরির জন্য ১০ কোটি টাকা, বি ক্যাটাগরির জন্য ৫ কোটি আর সি ক্যাটাগরি-এর নিচের কেনাকাটার জন্য নিয়ম করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, জরুরী সার্ভিসের নামে ভালো করতে গিয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কেনাকাটার নামে পুকুর চুরি করে আসছে। ওই সব কেনাকাটার ফাইল সংশ্লিষ্ট শাখায় তালিকা পর্যন্ত থাকে না। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হেফাজতে গোপনীয়ভাবে রেখে দেয়। সুযোগ মতোই সই অনুমোদনের ব্যবস্থা করে ফেলে। কালাজ্বরের জীবাণু নিধনে কীটনাশক ক্রয়ের ফাইলটি কর্মকর্তারা খুঁজে পায়নি। বেশ কয়েকদিন খোঁজার পর ফাইলটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তার হেফাজতে থাকার তথ্য পায়। ফাইলটি কোনো শাখা থেকে নাম্বার দেয়া হয়নি। সরাসরি ওই কর্মকর্তা নিজের হেফাজতে নিয়ে রেখে দেয় বলে উক্ত শীর্ষ কর্মকর্তা জানান। কালাজ্বরের ফাইল খুঁজতে গিয়ে সিন্ডিকেটের ফাইল লুকানোর এসব রহস্য ধরা পড়ে।