ত রু ণী ক থা
কাজী ইফসিতা বৃষ্টি
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪৫
সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশে নারীদের সচেতনতা বেড়েছে। বেড়েছে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও। আগের কট্টর মানসিকতার পরিবর্তনও ঘটেছে সমাজে। পড়াশুনা ও চাকরিবাকরিসহ সমাজের নানামুখি চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নারীও দিচ্ছে দারুণ সাহসিকতার প্রমাণ। সবমিলিয়ে নারীর জন্য সামগ্রিক অবস্থা ইতিবাচক। তবে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নারীবান্ধব হতে পারেনি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিনিয়র-জুনিয়র এবং সহপাঠীদের কাছে অনেকক্ষেত্রেই একজন নারী শিক্ষার্থীকে কটূকথা শুনতে হয়। বন্ধুদের আড্ডা কিংবা বড়ভাই বা জুনিয়রদের আড্ডাবাজির সময় অবমাননাকর-কটূকথাগুলোর বেশিরভাগ জুড়েই থাকে তারই সহপাঠী বান্ধবী। কখনো বা আবার জুনিয়র মেয়েও হয় আলোচনার বিষয়। এটা স্কুলে কম থাকলেও কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে বেশি হয়। অমুকের চেহারা এমন, হাঁটা চলা-ফেরা কিংবা নানান শারীরিক বর্ণনা। কয়েকজন ছেলে একত্রিত হলেই এধরনের সরস আলোচনার জন্ম নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরতরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হবে সেটিই দেশবাসী আশা করে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো নারীর অবমাননা ও নিগৃহীত হওয়ার পেছনে এসব শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখে, যেটা হওয়া উচিত নয়। অনেকে আবার এসব কথা, ঘটনা বা আলোচনা তার মেয়ে বন্ধু বা ক্লোজ বান্ধবীর সঙ্গে শেয়ারও করে। কখনো কখনো বন্ধুদের কাছে অন্য মেয়ের প্রতি অবমাননাকর এই ব্যবহারের বর্ণনা শুনে কোনো কোনো মেয়ে সায়ও দেয়। এটাও দুঃখজনক। এইসব আলোচনা, কথা, মন্তব্যগুলো এক বন্ধু থেকে অন্য বন্ধুর কাছে শেয়ার হওয়াও অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাতে সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর তারাই যদি এমন অসুস্থ মানসিকতার লালন ও পোষণ করেন তাহলে দেশে নারীর পথচলাটা মোটেই সহজ হয় না। নারীর সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যতই চেষ্টা করা হোক সেটা শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখবে না। তাই এ ব্যাপারে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই সচেতন হতে হবে ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সবার আগে বন্ধু, সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের কাছে সুসংহত হোক নারীর মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা।