খে লা ধূ লা
অবসরে ‘সাঁতার কন্যা’
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪৫
বর্নাঢ্য এক ক্যারিয়ারের আক্ষেপে ভরা শেষই হলো স্টেফানি রাইসের। তিন স্বর্ণ জিতে বেইজিং অলিম্পিকে সাড়া ফেলে দেয়া এই অস্ট্রেলিয়ান সাঁতার কন্যা এ মাসের নয় তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন সুইমিং পুলে আর ঝড় তুলবেন না তিনি। যদিও চোট আর অস্ত্রোপচারের আঘাত জর্জর গত দুই বছর শেষে এরকম ঘোষণা মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। মেলবোর্নে ২০০৬ কমনওয়েলথ গেমসে ২০০ ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে স্বর্ণ জিতে একরকম হৈচৈই ফেলে দেন রাইস। পরের বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এই দুটি ইভেন্টে জেতেন যথাক্রমে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ। পুলে দারুণ পারফরমেন্সের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্ল্যামার আর ফ্যাশনের দারুণ মিশেলে রাইস ঝড় তোলেন গণমাধ্যমেও। ক্রীড়াপাগল অস্ট্রেলিয়ানরা তো বটেই রাইসের ভক্ত বনে যান অনেক সাধারণ মানুষও। তবে সতীর্থ সাঁতারু ইমন সুলিভানের সাথে মন দেয়া-নেয়ার কথা স্বীকার করে পুরুষ ভক্তদের আগ্রহে জল ঢালেন রাইস নিজেই।
দু’বছর বাদে বেইজিং অলিম্পিকের ঠিক আগে আগে সুলিভানের সাথে বিচ্ছেদ ঘটলেও সেটা মোটেই প্রভাব ফেলেনি রাইসের পুলের পারফরমেন্সে। ইতালিয়ান মিটে দারুণ পারফরমেন্সের পর জাপানিজ চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা সাঁতারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪.৪০ সেকেন্ডের কম সময়ে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে স্বর্ণ জেতেন রাইস। তবে জিম্বাবুইয়ান তরুণী ক্রিস কভেন্ট্রির পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তবে খুব শিগগিরই এই দুঃখ ভুলে যান রাইস। বেইজিং অলিম্পিকের অস্ট্রেলিয়ান বাছাই পর্বে ৪ মিনিট ৩১.৪৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৪০০ মিটারের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেও গড়েন নতুন বিশ্বরেকর্ড। তবে কয়েকদিন পরেই অবশ্য আমেরিকান বাছাই পর্বে ৪ মিনিট ৩১.১২ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেন কেটি হফ।
এরপর আসলো সেই বেইজিং অলিম্পিক। নিজের প্রিয় ইভেন্ট ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ৪.২৯.২৫ সেকেন্ডে সাতার শেষ করে প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম স্বর্ণ এনে দেন তিনি। এই ইভেন্টে মহিলা বিভাগে এবারই প্রথমবারের মতো কোন প্রতিযোগী ৪.৩০ সেকেন্ডের কমে শেষ করার কৃতিত্ব দেখান। এরপর ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে এবং ৪ গুনিতক ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতেও বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জেতেন তিনি। এমন দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর লন্ডন অলিম্পিককে ভাবা হচ্ছিল রাইসের ইতিহাস গড়ার প্রতিযোগিতা হিসাবেই। কিন্তু সেখানে কোন পদক জিততে না পেরে ভক্তদের হতাশই করেন রাইস। হতাশা আর কাধে তিনটি অস্ত্রোপচারের কারণে এরপরে আর কোন প্রতিযোগিতায় নামা হয়নি তার। গত নয় তারিখ এক ভিডিও বার্তায় রাইস জানিয়ে দেন লন্ডন অলিম্পিকই ছিল প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে তার সর্বশেষ অংশগ্রহণ। লন্ডনের সময়টা ছিল আসলেই হতাশাজনক। ব্যাপারটা এমন ছিল যে আমি সবকিছু নিখুত করার জন্য আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করছি আর সবকিছুর ফল হচ্ছে উল্টো। সাঁতারে রাইসের অবদানস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ান সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক ‘মেডেল অফ দ্য আর্ট অফ অস্ট্রেলিয়া’ পদকে ভূষিত করে।