পুরুষ শাসিত বিশ্বে নারীর সাফল্য

হিলারি ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওমেন ইন দি ওয়ার্লড কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর সাফল্যের উপায় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন—  নারীদের জন্য ডবল স্ট্যান্ডার্ড নারী ভেতর ও বাহির দুইভাবেই শোষিত হচ্ছে। নারীদের ডবল স্ট্যান্ডার্ড বিষয়টি আমরা নারীরা প্রত্যক্ষ করছি অথবা আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সংস্কৃতি ও মনজগতে তা শিকড় গেড়েছে। ব্যক্তিসত্ত্বাকে মূল্যায়ন না করা এবং মানুষ লিঙ্গ ভিত্তিক চরিত্র বিশ্লেষণও এর অন্তর্গত। আর গণমাধ্যম বিষয়টি মানুষের মনে চাষ করে চলেছে।  কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানি বন্ধের কৌশল এই ক্ষেত্রে নারীকে প্রকাশ্য ও অন্তঃস্থ দুই ধরনের কৌশল গ্রহণ করতে হবে। প্রকাশ্য কৌশলটি হল- আপনাকে যৌন হয়রানির বিষয়টি পুরুষদের কাছে তুলে ধরতে হবে। পুরুষের মনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে কাজ করেছি। এই সময় আমি ইস্যুটি নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। তবে আমি কথা শুরুর আগে কিছু কৌশল গ্রহণ করেছি। যেমন- আপনি মনে হয় আপনার মেয়েকে নিয়ে খুব গর্বিত? এই প্রশ্নটি দিয়ে শুরু করেছি। এরপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে তাদের কনভিন্স করেছি।  যোগ্য নারীর সাফল্য সাফল্যের জন্য নারীর প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যক্তিসত্ত্বা। আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী এলিওন রুজভেল্ট বলেছেন, ‘যৌন সম্পর্কটার জন্য নারীর গন্ডারের মত চামড়া হওয়া উচিত’। কথাটি প্রাসঙ্গিক কারণ অনেক নারী স্বেচ্ছায় নিজেকে বন্দী রাখেন। তারা ব্যঙ্গ বিদ্রূপকে উপেক্ষা করতে পারে না। নিজেরা জ্বলে-পুড়ে মরে। আপনি উপহাসকে অবশ্যই সিরিয়াসলি নিবেন, তবে তা থেকে কিছু শেখার জন্য। অন্যের উপহাসের জন্য আপনি নিজেকে ধ্বংস করতে পারেন না। আপনাকে সোচ্চার হতে হবে। অন্যের ছুঁড়ে দেয়া অপমানজনক কথাকে সেন্স অব হিউমার দিয়ে উপহাস করতে হবে। আমার উপদেশ কঠিন মনে হলেও, এটাই করা উচিত। এই পথচলায় কিছু নারী ও পুরুষ সহকর্মীকে অবশ্যই আপনার পাশে পাবেন। এর জন্য আপনাকে সুশিক্ষা এবং সব সময় চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে।  কম বয়সে নারীরা যে ভুল করে আমি অনেক তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ দিয়েছি। যখন কোন তরুণীকে বলেছি- তোমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হবে কিংবা পদন্নোতি দিতে চাই, তখনি তারা আমাকে প্রথমে যা বলেছে তা হল ‘আপনি কি মনে করেন আমি এটা পারব? কিংবা আমি কি প্রস্তুত?’ কিন্তু এই এক প্রস্তাবে তরুণদের সাড়া ইতিবাচক। এখনও নারীরা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ভোগে। আপনাকে চাপমুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে হবে।  বিশ্ব জুড়ে নারীর অধিকার নারীর জন্য এখনও পৃথিবীতে কিছু ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি রয়েছে। অনেক দেশে নারী শিশু বোঝা কিংবা তাদের নাম নিবন্ধিত হয় না। ভারত ও চীনে নারী শিশু হত্যা বাড়ছে। নারী পুরুষের ব্যবধান তিন মিলিয়ন বেশি। কম বয়সে বিয়ে, সবার শেষে খেতে দেয়া, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়। আমরা জানি, আমাদের সামাজিক বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক বঞ্চনা অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে। নারীর সমঅধিকার অনেকের কাছেই মানবিক বিষয়। কিন্তু আমি মনে করি এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ও। পৃথিবী তার অর্ধেক জনসংখ্যা পিছনে ফেলে এগুতে পারবে না। সমঅধিকার কমাবে দ্বন্দ্ব, উন্নত করবে গণতন্ত্র আর শক্তিশালী করবে সরকার। আসুন হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলি। লিপটন কুমার দেব দাস