‘মেধাবিকাশের’ দ্যুতিতে আলোকিত চলনবিল
মো. রাশিদুল ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৩
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘কমল হীরের পাথরটাকে বলে বিদ্যা আর তার থেকে যে আলো ঠিকরে বেরোয় তার নাম হচ্ছে-কালচার। পাথরের আছে ভর আর আলোর আছে দ্যুতি’। চলনবিলে সেই দ্যুতি ছড়ানোর কাজটি করছে চলনবিল মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশন।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল বেষ্টিত খুবজীপুর ইউনিয়ন সদরে ডা. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চলনবিল মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশন। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত অসামপ্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ মানুষ গড়ে তোলাই সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য।
যেভাবে যাত্রা শুরু: এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার দৈন্যদশা দেখে ব্যথিত হন ডা. খলিলুর রহমান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কিছু একটা করার জন্য নিজের ভেতর তাগিদ অনুভব করেন তিনি। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন চলনবিল মেধা বিকাশ ফাউন্ডেশন। সেটা ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির কথা। খুবজীপুর ইউনিয়নের স্কুল ও কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি-কোচিং দেয়ার মাধ্যমে মেধা বিকাশের যাত্রা শুরু হয়। কোচিংয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের দিয়ে ইংরেজি, গণিত ও রসায়ন পড়ানো হয়। প্রথম বছরেই ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভাল ফলাফল পাওয়া শুরু হয়। আরো ভাল ফলাফলের জন্য আয়োজন করা হয় শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারের। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, প্রগতিশীল, অসামপ্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশন একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলে। চালু করে লাইব্রেরি, বই ও পত্রিকা পড়া কর্মসূচি। বর্তমানে লাইব্রেরিতে রয়েছে সাড়ে ১২০০ বই এবং প্রতিদিন রাখা হয় ইংরেজি-বাংলাসহ ৫টি দৈনিক পত্রিকা। সেই সাথে রয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে সংগঠনটি মেধা-নামে একটি বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশসহ বাত্সরিক শিক্ষা সফরের আয়োজন করে নিয়মিত। শিক্ষার্থীদের উত্সাহিত করতে ৫শ্রেণী থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া হয় সংবর্ধনা। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া হয় শিক্ষা বৃত্তি। দেশের প্রতিথযশা গুণী ব্যক্তিত্বদের এনে সংবর্ধিত করা হয়। যাতে করে তাদের অনুসরণ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যেতে পারে, দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখতে পারে।
সমস্যাঃ চলনবিল মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম থাকলেও নিজস্ব ভবন নেই। কার্যক্রম চলে চলনবিল হাসপাতালের দু’টি কক্ষে। পাঠাগারে পর্যাপ্ত বই থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আলমারী, বুকসেলফ, লাইব্রেরিয়ান। মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছিল মাত্র ৯ বছরেই তার সুফল পেতে শুরু করেছে চলনবিলের মানুষ। এটি চলনবিল জনপদের সুশীল মানুষের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
উদ্যোক্তার কথাঃ নতুন প্রজন্মকে জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য হূদয়ে ধারণ করে তা অনুধাবন করতে হবে এবং বর্তমান সকল সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করতে হবে। চলনবিল মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশন সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের চেতনার উন্মেষ ঘটাতে।