ফেরিতে চড়ে না ফেরার দেশে

দক্ষিণ কোরিয়ার ডুবে যাওয়া ফেরির উদ্ধার কাজ শেষ করতে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডুবুরিরা উদ্ধার কাজে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। কিন্তু যে ২৭০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে তাদের জীবিত কিংবা মৃত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ পাওয়া গেছে। হেলিকপ্টার ও লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে ১৭৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। নিহতদের সনাক্ত করতে স্বজনরা ডিএনএ স্যাম্পল সরবরাহ করছেন। ফেরির ক্যাপ্টেন লি জুন সিওক ও দুইজন ক্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। লি বলেছেন, যাত্রীরা ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ’ হারিয়ে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি দেরি করে তাদেরকে ফেরি থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। ফেরিটি প্রথম বিপদ সংকেত পাঠানোর ৪০ মিনিটের বেশি সময় পর এমনকি ফেরির এক দিক হেলে পড়ার পরও কেন যাত্রীদের নিজ নিজ আসন ও কক্ষে অবস্থান করতে বলা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। লি বলেন, ‘এই বড় ক্ষতির জন্য আমি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মাথা নত করছি।’ ছয় হাজার ৮২৫ টনের সেউল নামের ফেরিটি গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় উপকূলে ডুবে যায়। নিখোঁজদের অধিকাংশই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। অবকাশ যাপনের জন্য জেজু দ্বীপের উদ্দেশ্যে তারা ওই ফেরিতে চড়ে ইনচিওন বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।