মুম্বাইতে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে অবৈধ বাংলাদেশিরা
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৫
ভারতের মুম্বাই শহরে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ অনেকদিন ধরেই সরব। প্রতিবার নির্বাচনের সময় এলেই এই বাংলাদেশিদের বিতর্কের কেন্দ্রে টেনে আনা হয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনার বক্তব্য, এই বাংলাদেশিদের জন্যই শহরে অপরাধ বাড়ছে। পুলিশের তথ্য যদিও সে কথাকে সমর্থন করে না, তার পরেও বাংলাদেশিদের আটক করে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য মুম্বাইতে পুলিশি অভিযান চলছে নিয়মিতই।
ধর্ষণের রাজনীতি
ঘটনাটা প্রায় সাত-আট মাস আগের। মুম্বাই শহরে শক্তি মিল নামে একটি পরিত্যক্ত কারখানা চত্বরে এক তরুণী চিত্রসাংবাদিক যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, তাতে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীরা কেউ গ্রেফতার হওয়ার আগেই মুম্বাইয়ের প্রভাবশালী দল শিবসেনা জানায়, এটা নির্ঘাত অবৈধ বাংলাদেশিদের কাজ! দলের ডাকসাইটে নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, বাংলাদেশিরা মুম্বাইতে ঢুকছে হুড়মুড় করে, তাদের কোনও রেকর্ড কোথাও নেই। আর তার সুযোগ নিয়েই তারা খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। পরে অবশ্য দেখা যায়, ধর্ষণকারীরা সবাই মুম্বাইয়ের স্থানীয় দাগী অপরাধী। সমপ্রতি তাদের ফাঁসির সাজাও হয়েছে।
এ ঘটনায় শিবসেনা অবশ্য দুঃখ প্রকাশের ধার ধারেনি, বরং এ সপ্তাহেও দলের রাজসিক সদর দফতরে বসে শিবসেনা নেত্রী ও মুখপাত্র শ্বেতা পারুলকর বিবিসিকে বলেন, মুম্বাইতে বাংলাদেশিদের ঠাঁই হবে না! তার যুক্তি হল, বাংলাদেশিরা যদি এ শহরে আসতেই থাকেন, মুম্বাই শহর সেই চাপ সামলাতে পারবে না। চাপ বাড়বে পরিবহন, জল সরবরাহ বা সবধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর। আর তারচেয়েও বড় কথা, শিবসেনা বিশ্বাস করে মুম্বাই শহরে অপরাধের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে তার সঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশিদের সরাসরি সম্পর্ক আছে।
মুম্বাই পুলিশের বক্তব্য
আসলে রুটিরুজির সন্ধানে সুদূর বাংলাদেশ থেকে যে গরিব মানুষরা আরব সাগরের তীরে এসে ভিড়ছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনমতকে উসকে দিয়ে মুম্বাইয়ের রাজনীতি সরগরম করার চেষ্টা নতুন নয়। তাদের ভোট নেই, ভোটার কার্ডও নেই। অথচ মুম্বাইয়ের নির্বাচনে এই বাংলাদেশিরা বরাবরই একটা বড় ইস্যু। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, শহরে অপরাধের সঙ্গে তাদের খুব একটা যোগাযোগ নেই। মুম্বাইয়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মহেশ পাটিল বলেন, শহরে বড় বড় অপরাধে বাংলাদেশিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশও প্রায় নিয়ম করেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ধরা পড়লে আদালতের নির্দেশ মেনে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশেও।