দাওয়াত দিয়ে লোক জড়ো করে টেটাযুদ্ধ

নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষার চরে দুই দল লাঠিয়াল বাহিনীর টেটাযুদ্ধ কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। বন্ধ হচ্ছে না রক্তের হোলি খেলা। অব্যাহত টেটাযুদ্ধ এখন গ্রাম্য দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে। এলাকার গ্রামগুলো এখন বিরান ভূমি। অব্যাহত সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার নবম বারের মত টেটাযুদ্ধ হয়। নিলক্ষার চরের দড়িগাঁও গ্রামের শহীদ মেম্বার ও হরিপুর গ্রামের সুমেদ আলীর লাঠিয়াল বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত এই টেটাযুদ্ধে উভয় পক্ষে কমবেশি ৫০ জন আহত হয়েছেন। টেটাযুদ্ধের সময় ককটেলেরও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বেশ কয়েকজন পুলিশের ঝামেলা এড়াতে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এছাড়াও আহতদেরকে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা দেয়ার জন্য উভয় লাঠিয়াল বাহিনী এলাকায় ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গত ২০ দিনে ছোট বড় কমবেশি নয়টি টেটাযুদ্ধ হয়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন। ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। লুটপাট ও চাঁদাবাজি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মালামাল। রায়পুরা থানায় মামলা- পাল্টা মামলা হয়েছে অন্তত ১০টি। কয়েক হাজার মানুষকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করেও টেটাযুদ্ধ বন্ধ করা যায়নি। নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) এ কে এম জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, নিলক্ষার চরের এ ঝগড়াটা নতুন ঘটনা নয়। এখানে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি ইউনিয়নের লোকদের দাওয়াত দিয়ে জড়ো করে দুই পক্ষ ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। সীমিত সংখ্যক পুলিশ দিয়ে তিন থেকে চার হাজার লোকের এ সংঘর্ষ ঠেকানো কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এটা দমন করতে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।