ছয় বছর ধরে নিখোঁজ ঝিনাইদহের ১৯ যুবক

এখনো অপেক্ষায়

স্বজনরা

 ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পানিপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার পথে ছয় বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে ঝিনাইদহের ১৯ জন যুবক। নিজের ভাগ্যের বদল করতে গিয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে পুরো পরিবারে। বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে গরু বিক্রি ও জমি বন্ধক দিয়ে টাকা ধার নিয়ে দালালদের দিয়েছে। তারপরও ফিরিয়ে আনার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র। কোথায় আছে, কিভাবে আছে কোনো খোঁজখবরই মিলছে না তাদের। বেঁচে আছে কিনা তাও বলতে পারছে না কেউ। তারপরও তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে স্বজনরা।

নুরজাহান বেগম। কান্না থামছে  না তার। চোখের পানি ঝরতে ঝরতে এখন আর ঠিকমতো চোখেও দেখতে পারেন না তিনি। তবুও পথপানে চেয়ে থাকেন ছেলের ফেরার অপেক্ষায়। বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে।  তাদের সংসার ভালোই চলছিল।  আরো সুখের আশায় ছেলে  জগত আলি স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে দালালের খপ্পরে পড়ে। কাউকে না বলে অবৈধভাবে পানিপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। টেকনাফ গিয়ে মোবাইলে কথা হয় মায়ের সঙ্গে। বলে মা আমাকে বেঁধে ফেলেছে। ট্রলারে উঠাচ্ছে। আমার মেয়ে দুটিকে দেখো। আর কথা হয়নি ছেলের সঙ্গে। একে একে ছয়টি বছর পার হয়ে গেছে। দেখা হওয়া তো দূরের কথা। আর কোনোদিন কথা হবে কিনা তাও জানে না নুরজাহান বেগম। তারপরও ছেলেকে খুঁজে ফিরছে দিন-রাত।

 একই রকম কথা বলেন, নিখোঁজ আব্দুল হামিদের বাবা মো. আব্দুল্লাহ। স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় আব্দুল হামিদ। দুইদিন পর টেকনাফ থেকে মোবাইল ফোনে বলে, ট্রলারে উঠাচ্ছে।  সাগর পার হয়ে ওপারে গিয়ে ফের কথা বলবো। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আব্দুল হামিদ আর কথা বলেনি।  এ পরিবারটিতে নেমে এসেছে অভাব-অনটন। টেকনাফ থেকে আব্দুর রহিম নামে এক দালাল হামিদের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ আব্দুল্লাহর। শুধু নুরজাহান বেগমের ছেলে জগত আলি বা মো. আব্দুল্লাহর ছেলে আব্দুল হামিদের নয়।  তার মতো করে নিখোঁজ রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১৯ জন যুবক। তাদের কারোরই কোনো সন্ধান নেই। প্রতিটি পরিবারের একই অবস্থা। সচ্ছলতার পরিবর্তে ক্ষুধা আর দারিদ্র্য নিত্যদিনের সঙ্গী তাদের। এখনো সবাই অপেক্ষায় আছে তাদের ফিরে আসার। নিখোঁজ যুবকরা হচ্ছেন: রামচন্দ্রপুর গ্রামের জগত আলি লাভলু, আব্দুল হামিদ ও আরাফাত হোসেন, গাড়ামারা গ্রামের রিপন, ফরিদ হোসেন, আবু বকর, নাজমুল হক, লালচাঁদ, মাসুদ রানা, আলম হোসেন ও ওলিয়ার রহমান, মহামায়া গ্রামের জালালউদ্দিন, মিয়াকুন্ডু গ্রামের ইউনুস, বাচ্চু, বিপুল জোয়ার্দ্দার ও ওলিয়ার রহমান এবং পিরোজপুর গ্রামের তারিক মণ্ডল, উলফাত মণ্ডল ও শহিদুল উসলাম।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, শুনেছি ঝিনাইদহ জেলার বেশ কয়েকজন অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন।