গল্প নয় সত্যি
সেলফি তুলতে গিয়ে!
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩২
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যপক আলোচিত এক ট্রেন্ডের নাম ‘সেলফি’। অন্য কারও সাহায্য না নিয়ে নিজেই নিজের ছবি বা ভিডিও তুলে তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা নিয়ে অনলাইনে বহুদিন থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আর এই ধারায় সর্বশেষ যে ভিডিও সেলফিটি গেল কিছুদিন অনলাইনে আলোচনার খোড়াক যুগিয়েছে সেটি হলো কানাডার অধিবাসী জেয়ার্ড ফ্রাঙ্কের একটি ভিডিও। পেরুতে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ট্রেনকে পটভূমিতে রেখে নিজের ভিডিও ধারণ করতে যেয়ে বেচারা ফ্রাঙ্ককে শেষতক ট্রেনের কন্ডাক্টরের এক মোক্ষম লাথিই হজম করতে হয়েছে। আর ট্রেন লাইনের খুব কাছে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করতে যেয়ে কন্ডাক্টরের জোড়ালো লাথি খাওয়ার এই ভিডিওটিই ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধকোটি দর্শক পেয়েছে ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় সাইট ইউটিউবে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে পেরুর ঐতিহাসিক সব স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সময় শখের বশে অনেক কিছুই নিজের ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন ফ্রাঙ্ক। আর এরই অংশ হিসেবে দেশটি থেকে চলে আসার আগে পেরুর কুস্কো থেকে মাচু পিচুর মধ্যে চলাচলকারী ঐতিহ্যবাহী নীল-হলুদ রঙের ট্রেনের সামনে একটি ভিডিও সেলফি ধারণ করতে চেয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনটি আসবার সময় পথের এক জায়গায় ট্রেন লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণও শুরু করেছিলেন তিনি। তবে হঠাত্ করেই অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তার মাথা এবং ঘাড়ের মাঝামাঝি স্থানে এসে আছড়ে পড়ে একখানা পা। সম্বিত ফিরে পেয়ে এবং পরে ভিডিও’টি সে¬া মোশনে দেখে ফ্রাঙ্ক বুঝতে পারেন যে, এই লাথি দেওয়াটা অন্য কারও নয় বরং ট্রেনের কোনো এক কন্ডাক্টরেরই কান্ড। এ ছাড়া তিনি ট্রেন লাইন থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকলেও সেটা যে এ ধরনের লাথি থেকে বাঁচবার জন্য যথেষ্ঠ দূরত্বে ছিল না সেটাও পরে উপলব্ধি করতে পারেন ফ্রাঙ্ক। এদিকে ফ্রাঙ্কের এই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের কাছ থেকেও সহানুভূতির পরিবর্তে সমালোচনাই বেশি সইতে হচ্ছে ফ্রাঙ্ককে। যার মধ্যে অধিকাংশেরই মতামত ছিল এ ধরনের যে, ট্রেন লাইনের এত কাছে দাঁড়িয়ে যে সেলফি তুলতে যায় তার এমনভাবে লাথি খাওয়াই উচিত্। সবমিলিয়ে ঐতিহ্যের একটা নিদর্শনের সঙ্গে নিচের সেলফি ধারণ করতে যেয়ে ভালো ঝক্কিই সইতে হচ্ছে বেচারা ফ্রাঙ্ককে।