সিরাজগঞ্জে তাঁত পল্লি সরগরম

দুশ্চিন্তার কারণ বিদেশি শাড়ি

মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদ সামনে রেখে প্রতিবছরের মত এবারও সিরাজগঞ্জে তাঁত পল্লিগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। তাঁত বুননের খট খট শব্দে তাই মুখরিত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালি, উল্লাপাড়া, কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত পল্লিগুলো। চলছে নানা নামের বাহারি নানা ডিজাইনের শাড়ি তৈরির কাজ। কিন্তু বিদেশি শাড়ি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকার তাঁত মালিক শফিকুল আলম জানান, ঈদের মৌসুমে পুরোদমে কেনাবেচা চলছে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারও আসছে। বেচাকেনাও ভালো।

ঢাকা থেকে আসা পাইকার শহিদুল ইসলাম জানান, আমি প্রতি বছরই সিরাজগঞ্জ থেকে শাড়ি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে ব্যবসা করি। এখানকার শাড়ির চাহিদা সারা দেশব্যাপী রয়েছে। কিন্তু বিদেশি শাড়ি দেশে আসার ফলে দেশীয় শাড়ির বাজার অনেকটাই সংকটে পড়েছে।

বেলকুচি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন প্রামাণিক জানান, রোজার প্রথম হাটের অবস্থা দেখে হতাশ তাঁত মালিকরা। দেশের বড় বড় হাট ও বাজারগুলো বিদেশি কাপড়ের দখলে থাকায় এবছর দেশীয় তৈরি শাড়ি লুঙ্গির বাজার মন্দা। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা তাঁত শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। সরকারে সঠিক নজরদারি না থাকলে এ শিল্প বিলুপ্তি হয়ে যাবে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সাইফুর রহমান বলেন, তাঁত শিল্পকে রক্ষায় প্রশাসন ব্যাপক তত্পর। নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ বর্ডার এলাকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কাস্টমসকে। কোনোভাবেই যেন অবৈধ কাপড় দেশের বাজারে আসতে না পারে সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

ঈদ ঘিরে কর্মচঞ্চল বেড়ার তাঁত কারখানাগুলো

বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, স্থবির হয়ে পরা বেড়া উপজেলার তাঁত কারখানাগুলো রোজার ঈদ সামনে রেখে আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। মেশিনের শব্দে আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার তাঁত কারখানা। সেই সঙ্গে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

বেড়া উপজেলার, হাঁতিগাড়া, বনগ্রাম, মোহনগঞ্জ, পেঁচাকোলা, নয়নপুর, হরিরামপুর, মাছখালী, ঘিওর, রাকশার লয়লাপাড়া এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাঁত নির্ভর। তাদের জীবন জীবিকার প্রধান উত্স তাঁত থেকে উত্পাদিত লুঙ্গী বাজারজাতকরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কারণ এসব এলাকায় উত্পাদিত কাপড়ের মধ্যে লুঙ্গি প্রধান।

প্রতিটি তাঁত কারখানায় আবার চলে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিকের জীবন। এসব প্রান্তিক তাঁত শ্রমিকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লুঙ্গি বুনে যায়। দিনমজুরি ভিত্তিতে চলা এসব পরিবার তাঁত নির্ভর। কাজ থাকলে তবেই মুখে ভাত ওঠে। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ উপজেলার বহু তাঁত লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলো চলছে ঝিমিয়ে। ফলে অনেকেই এ পেশা থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

পেঁচাকোলা গ্রামের বাচ্চু মিয়া জানান, বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ করতেই হচ্ছে। এখন কাজ না করলে বাকি সময় লোকসান গুণতে হবে।