কুমিল্লায় ইজারার নামে দীঘি দখল করে মাটি বিক্রি

কুমিল্লা সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় ইজারার নামে প্রায় দুইশ বছরের পুরনো ‘কমলাদীঘি’ স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে দীঘির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এ দীঘির দলিলমূলে ক্রেতারা এর মালিকানা নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে বিচারক ঐ ৫ জনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জানা যায়, ১৯৬৪ সালে বিনিময় দলিলমূলে নজুমউদ্দিনসহ বিনিময়কারিগণ জেলার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের ৩ একর ২৩ শতক আয়তনের কমলাদীঘিসহ ৩০ একর ১৬ শতক ভূমির মালিক। এ ব্যাপারে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদালতে বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রির জন্য মামলা (নং-৩৩৩/৬৪) চলমান আছে। পরবর্তীতে নজুমউদ্দিন ও তার ওয়ারিশগণ ওই দীঘিটি কমলাপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ একই গ্রামের ২২ জনের কাছে বিক্রি করেন। এরই মাঝে নূরুল ইসলাম ভুঁইয়া বাদী হয়ে বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি লাভের জন্য কুমিল্লার জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনকে বিবাদী করে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া তিনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ২০১৩ সালের ২ এপ্রিলের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনের নিকট জবাব চেয়ে নোটিস প্রেরণ করেন। এই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় দীঘির ১ একর ৪৫ শতক অংশ ইজারা দেয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত বছরের ৪ মার্চ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিশাল এ দীঘিটির অংশবিশেষের ইজারা গ্রহীতা সদর উপজেলার আড়াইওড়া দুর্গাপুর স্বনির্ভর মত্স্যজীবী সমবায় সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য একই বছরের ৬ মে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন ইউএনও। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক ওই পুকুরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ প্রদান করেন। মামলার বাদী নূরুল ইসলামসহ দীঘির খরিদসূত্রে অন্য মালিকরা জানান, বিনিময় দলিল নিয়মিতকরণের (রেজিস্ট্রি) পক্ষে জেলা প্রশাসকের নিকট ১৯৮৫, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে তিন দফায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও অজ্ঞাতকারণে তা না করায় নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি; কিন্তু মামলা চলমান অবস্থায় প্রশাসনের সাথে যোগসাজশে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ইজারার নামে জবর দখল করে দীঘির মাটি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তারা দিনে-রাতে ২টি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ৮/১০টি ট্রাক্টরে করে পার্শ্ববর্তী একটি ব্রিকফিল্ডের মালিকের নিকট বিক্রি ও সরবরাহের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলাল উদ্দিন জানান, “এ দীঘিটি আমার পূর্ববর্তী ইউএনও ইজারা দিয়েছেন। সম্পত্তিটি খ তালিকাভুক্ত হওয়ায় ইজারা দেয়া সঠিক হয়নি, তাই ইজারা গ্রহীতাকে দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। যারা এ দীঘির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।”