চিকিত্সক-নার্স ও আধুনিক যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট

রাজারবাগ কেন্দ ীয় পুলিশ হাসপাতালের সমস্যার শেষ নেই। হাসপাতালে নেই প্রয়োজনীয় চিকিত্সক-নার্স। আধুনিক চিকিত্সা যন্ত্রপাতিরও রয়েছে চরম সংকট। তাই সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় যে বাহিনীটি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে, সেই বাহিনীর সদস্যদের দরকারের সময় সুচিকিত্সা মিলছে না। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের যেসব শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে তারও চিকিত্সা পাচ্ছেন না তারা। হাসপাতালটি বাইরে থেকে দেখতে বেশ আধুনিক। ১০তলা ভবন, বেড আছে ২৫০টি। অথচ নেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ও করোনারী কেয়ার ইউনিট। ছোটখাট অপারেশন ছাড়া কোন বড় ধরনের অপারেশন সুবিধা নেই এখানে। রোগ নির্ণয়ে নেই সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বাধ্য হয়ে তাই অসুস্থ পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের লোকজন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছুটেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। দেখান বাইরের চিকিত্সক। ঢাকার বাইরে ৫টি বিভাগীয় শহরেও রয়েছে পুলিশ হাসপাতাল। এছাড়া দেশের পুরনো ১৯টি জেলায় রয়েছে সল্প সংখ্যক বেডের পুলিশ হাসপাতাল। একজন মেডিক্যাল অফিসার এবং একজন কম্পাউন্ডার সেখানে চিকিত্সা দিয়ে আসছেন। ডাক্তার, নার্স ও চিকিত্সা সামগ্রীর তীব্র সংকট সেখানেও। রাজারবাগ কেন্দ ীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ডিআইজি আবু মুসা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, কেন্দ ীয় পুলিশ হাসপাতালের ১০তলা ভবন নির্মাণ এবং চিকিত্সার জন্য যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ই হয়েছে। পুলিশের চিকিত্সাসেবা নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামায়নি। পুলিশ শুধু মানুষের জীবন রক্ষাসহ সেবা দিয়ে যাবে। পুলিশের যেন চিকিত্সাসেবার প্রয়োজন নেই, এমনভাব অন্যান্য সরকার দেখিয়েছে। ১৯৮৪ সালে কেন্দ ীয় পুলিশ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৯ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের চিকিত্সার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তখনই পুলিশ হাসপাতালটি ১০তলা করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিত্সকের পদ আছে ৭৭টি। অথচ কর্মরত আছেন ৩৫ জন, নার্সের পদ ৪৬টি অথচ কাজ করছেন ২৭ জন। টেকনেশিয়ানের পদ ১৪টি। কাজ করছেন মাত্র ৭ জন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যে বাহিনীটি প্রথম অস্ত্র তুলে নিয়েছিল সেই বাহিনীটির সদস্যরাই সুচিকিত্সা পান না। এটা ভাবলেই খারাপ লাগে। বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর একটি থানার এক কর্মকর্তা। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ১০ মাস রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এতে ১৭ পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনশ’ পুলিশ সদস্যের অবস্থা গুরুতর। প্রায় একশ পুলিশ পুঙ্গত্ব বরণ করছেন। ১৯৭১ সালের পর পুলিশ বাহিনীতে এত বড় আত্মত্যাগ আর কখনও হয়নি। আইজি বলেন, নিরাপত্তার কারণে আহত পুলিশ সদস্যদের সেসময় বাইরের চিকিত্সা করানোটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ ীয় হাসপাতালটি অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য তিনি চিকিত্সক, নার্স ও টেকনেশিয়ান নিয়োগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশের স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে জাতি অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত থাকবে। পুলিশ মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট তৈরি হবে। রাজধানীতে সংযুক্ত ডাক্তারদের রাজারবাগে বদলি করা হবে-স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে সংযুক্ত চিকিত্সকদের তালিকা তিন দিনের মধ্যে প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই চিকিত্সকদের সংযুক্ত থাকার আদেশ বাতিল করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে বদলি করা হবে। যারা এ হাসপাতালে যোগদান না করবেন তাদেরকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হবে। গতকাল রাজারবাগ কেন্দ ীয় পুলিশ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অর্ধ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজধানীতে থাকার জন্য সংযুক্ত থাকেন ডাক্তাররা। এ সুযোগ আর দেয়া হবে না। গ্রামে গিয়ে চিকিত্সাসেবা দিতে হবে।