হিসাব জমাদানে ব্যর্থদের তালিকা চেয়েছে ইসি
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৭
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি, তাদের তালিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সোমবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যয়ের হিসাব জমাদানে ব্যর্থ প্রার্থীদের তালিকা আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য ইসির ওয়েবসাইটে দেয়ার জন্য নোট দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি।
ইসি সচিবালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ) স্ব স্ব নির্বাচনী ব্যয় বিবরণীর ৪টি তথ্য আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রেরণের অনুরোধ করা হলো। তথ্যগুলো হলো নির্বাচনী এলাকার নাম ও নম্বর, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ), যেসব প্রার্থী হিসাব জমা দেননি তাদের নাম ও ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের মন্তব্য। সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ সকল জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। এই চিঠির অনুলিপি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ইসি সচিবালয় থেকে আরেকটি চিঠি রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল করা না হয়ে থাকলে মামলা সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হয় সংশ্লিষ্টদের কাছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দশম জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭৩ জন নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলের দুই মাস পর এ পর্যন্ত ৩৬৯ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পেয়েছে ইসি। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতসহ ৩শ আসনে ৫৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালের নবম অধ্যায়ের ১১ দফায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী/পরাজিত সব প্রার্থীর জন্যই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদেরও এ হিসাব দাখিল করতে হবে। এমন কি কোন প্রার্থীর নির্বাচনে কোন ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই বিধান লংঘনের শাস্তি আরপিও’র ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে দুই থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২-এর ৪৪-সি অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধান অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত ফরমে এফিডেভিটসহ সংশ্লি¬ষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে। একই সাথে এর অনুলিপিও রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।