রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সমাপনী উত্সবে মেতেছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রভবনের সামনে দেখতে পেলাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের একটি অন্যতম নিদর্শন গরুর গাড়িতে শাড়ি পরে, কপালে টিপ দিয়ে পুরো বাঙালি বধূ সেজে কয়েকটি মেয়ে ডুলির বাদ্য যন্ত্রের সাথে নেচে চলেছে। তাদের সাথে আর কিছু সংখ্যক মেয়ে একই তালে নাচছে। যেন তাদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে চলেছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে হাজারো শিক্ষার্থীদের মাঝে হঠাত্ তাদের এই বাঙালি সাজে আনন্দ উল্লাসের অর্থ কি? পরে অবশ্যই তাদের ব্যানার দেখে বুঝতে পারলাম ‘ইচ্ছে ডানা’ মেলে দেশের সেবায় কাজ করতে চাই। বন্ধুরা অতক্ষণ যে কথা বলছিলাম, তা হলো রাবির খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী ২০০৮-০৯ শিক্ষার্থীদের ১২ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য র্যালি। আর উপরের কবিতার লাইন দুটি হচ্ছে সমাপনীর টাইটেল। রাবির একটি ঐতিহ্য হলো প্রত্যেক বছরে নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষে স্ব-স্ব হলের পক্ষ থেকে সমাপনী উত্সব উদযাপন করা। কিন্তু ক্যাম্পাসে পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় গত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সবগুলো হলে না হলেও মেয়েদের হলগুলোতে সমাপনী উত্সব শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিপুল আনন্দ, উত্সব আর উল্লাসে মেতে উঠে বিভিন্ন ছাত্রীহলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ উত্সব দেখে যে কেউ মনে হয় এ যেন নতুন করে সুন্দর সবুজকে খুঁজে পাওয়া, এ যেন প্রাণে নতুন ছোঁয়া, শিক্ষাজীবন সমাপনী শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বে মতিহারের সবুজ চত্বরে সবুজ প্রাণের ছোঁয়া। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়া হল মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা ‘খালেদা জিয়া হলের ২০০৮-২০০৯’ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সমাপনী অনুষ্ঠান। ‘ইচ্ছে ডানা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের স্মারক ক্রেস্ট উপহার দেন। দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ সময় আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষাজীবনের শেষ মুহূর্তের সমাপনী অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। খালেদা জিয়া হলের সমাপনীর আহ্বায়ক সাবিনা ইয়াসমিন পুথি বলেন, কি পায়নি তারি হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজি, আজ হূদয় ছায়াত আলোতে বাসরী উঠেছে বাজি। ‘অন্তাংশের অর্থনা’ মন্নুজান হলের ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানের শ্লোগান। যার অর্থ হলো অন্তরের প্রার্থনা। শিক্ষা জীবনের শেষ মুহূর্তে সবাইকে জানিয়ে গেলেন অন্তরের প্রার্থনা বড় প্রার্থনা। গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় হল ডাইনিংয়ে ‘অন্তাংশের অর্থনা’ শীর্ষক এই সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর ১৬ এপ্রিল সমাপনী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালি। র্যালিতে মেয়েদের একই রকম শাড়িতে এক অপূর্ব দৃশ্যে অবতারণা সৃষ্টি হয়। মতিহার ক্যাম্পাসে লাগে প্রাণের ছোঁয়া। সমাপনীর এ আনন্দে অনেকে ক্যাম্পাসে আরো কিছুদিন থাকার জন্য আফসোস করে। মন্নুজান হলের সমাপনী শিক্ষার্থী সুফিয়া সাহা বলেন, জীবনে কখনো বিশ্ববিদ্যালয় অতিবাহিত করা প্রতিটি মুহূর্ত, বিশেষ করে হল জীবনের কথা কখনো ভুলতে পারবো না। এছাড়া গত ২১ এপ্রিল রহমতুন্নেসা হলের ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। এই হলের সমাপনীর নাম ছিল ‘কাঠগোলাপের মায়া’।