মোহনার স্বপ্ন

সানজিদা ইয়াছমিন ইতি সদস্য নম্বর :৩২৩৭ এক গ্রামে ছিল এক মেয়ে, মেয়েটির নাম হলো মোহনা। তার বয়স ১০ বছর। মোহনা বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। মোহনা ক্লাস ফাইভে পড়ে। মোহনা ফাইভে ওঠার দু’মাস পরে তার মা মারা যান। মোহনার বাবা একজন কৃষক। দিন এনে দিন খায়। হঠাত্ একদিন রাতে মোহনার মায়ের ভীষণ বুকে ব্যথা উঠল। মোহনার বাবা মোহনার মায়ের চিকিত্সার জন্য টাকা চাইতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান এই রাতের বেলায় টাকা দেয়নি। মোহনার বাবা আরও দু’জন লোকের কাছে গেলেন। তারাও টাকা দিল না। তারপর মোহনার বাবা গেলেন গ্রামের ডাক্তারের কাছে। কিন্তু ডাক্তার টাকা ছাড়া এলো না। ব্যর্থ হয়ে মোহনার বাবা বাড়ি ফিরে এলেন। মোহনার মা মারা যাবার আগে তার বাবাকে একটা অনুরোধ করে গেলেন— মোহনাকে যেন ডাক্তার বানায়, মোহনার মা ভোর ৫টায় মারা গেলেন। মোহনার বাবা এবং মোহনা অনেক কান্নাকাটি করল। মোহনার দাদীও অনেক কাঁদল। তারপর একসময় মোহনার দাদী মোহনা এবং মোহনার বাবাকে সান্ত্বনা দিতে লাগল। কিন্তু মোহনা কিছুই বুঝলো না। মোহনার মায়ের কবর বাড়ির সামনে। মোহনা সকাল-বিকাল সেখানে গিয়ে অনেক কাঁদে। মোহনাকে তার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাও সান্ত্বনা দিল। তার কয়েকদিন পরে মোহনার বাবা মোহনাকে লেখা-পড়া মনোযোগ সহকারে করতে বলে। মোহনা স্কুলে যাওয়ার পথে মায়ের কবরের পাশে অনেক কাঁদে। কাঁদে আর বলে- মা আমার সামনে পরীক্ষা, আমাকে দোয়া কর। আমি যেন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারি। তখনকার দিনগুলো ছিল মোহনার জন্য খুবই কষ্টের দিন। একদিকে মায়ের মৃত্যুর শোক, অন্যদিকে পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে হবে। দেখতে দেখতে মোহনার পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে এল। কাল মোহনার পরীক্ষা। মোহনা রাতে খুব ভাবে পড়ল। পরদিন মোহনা খুব সকালে উঠল, নামাজ পড়ল, নাস্তা খেল, গোসল করে আসল, মোহনার দাদী গরম ভাত রান্না করল। মোহনা এবং মোহনার বাবা একসঙ্গে ভাত খেল। মোহনা সুন্দর একটা জামা গায়ে দিল। সুন্দর করে চুল বাঁধল। পড়াগুলো আর একবার দেখে নিল। এবার যাওয়ার পালা, মোহনা দাদীকে পা ধরে সালাম করল, দাদী মোহনাকে ১০০ টাকা দিল এবং দোয়া করল। মোহনা ও তার বাবা যখন বাড়ি থেকে বের হল তখন মোহনা ও তার বাবা তার মায়ের কবরে মুনাজাত করে নিল। মোহনা মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলল, মা আমাকে দোয়া কর। তারপর তারা স্কুলের দিকে রওনা হল। সেখানে গিয়ে মোহনা তার বাবাকে সালাম করল, মোহনাকে তার বাবা ২০০ টাকা দিল। তারপর মোহনা পরীক্ষার হলে গিয়ে পৌঁছালো। আস্তে আস্তে সব বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হল। ১ মাস পরে রেজাল্ট বের হবে। প্রতিবছর পরীক্ষা শেষ হলে মোহনা ও তার মা তার নানু ও খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ বছর মোহনা কোথাও বেড়াতে যায়নি। ১ মাস পরে মোহনার রেজাল্ট বের হল। মোহনা A+ পেল। তার পরে মোহনা ঢাকায় চলে গেল। তার ১২ বছর পর মোহনা একজন বড় ডাক্তার হল। গ্রামের সকল লোক অবাক। মোহনা তার মায়ের নামে গ্রামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করলো। সেখানে মোহনা তার গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিত্সা দেয়। মোহনার মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ হলো। মাঝে মাঝে মোহনার মা হারানোর কষ্ট মনে পড়ে। মোহনার কষ্টের দিন দূর হলো। শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কোম্পানিগঞ্জ, নোয়াখালী