সারাদেশে বৃষ্টির জন্য হাহাকার
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫২
গ্রীষ্মের তাপদাহে ওষ্ঠাগত জীবন। সারাদেশে বৃষ্টির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় হস্তচালিত নলকূপ, এমনকি গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। এর সঙ্গে বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় মানুষ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, নিকট অতীতে এতো দীর্ঘমেয়াদী তাপদাহ আর দেখা যায়নি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর আসছে। ডায়রিয়া, সর্দি জ্বরের প্রকোপও বেড়েছে।
ইত্তেফাক রিপোর্টার জানান, রাজধানীর মুগদায় গতকাল হিটস্ট্রোকে মনতাজ উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি মানিকনগরের ৪৩৩/১ নম্বর বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। বেলা ১১টার দিকে ফুল গাছে পানি দেয়ার জন্য ছাদে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। বাড়ির ভাড়াটিয়ারা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মনতাজের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার চরিতাবাড়ি গ্রামে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে ফতেপুর রেড়ের মাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুপুরে মৃত্যুবরণ করেছেন। অসুস্থ হওয়ার পর তাকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুপুরে তিনি মারা যান।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, বৈশাখের কাঠফাটা রোদ আর গরমে অতিষ্ঠ পঞ্চগড়ের মানুষ। ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চৈত্র-বৈশাখ মাস মানেই বৈশাখী ঝড়। সেই সঙ্গে বৃষ্টি ও শীলাবৃষ্টি। পঞ্চগড়ের মানুষ এই পরিস্থিতির সঙ্গেই পরিচিত। কিন্তু এবার কোনটির দেখা নেই।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ করে সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধার মদনের পাড়ায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা। দিনরাতে টানা লোডশেডিংয়ে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোবাইল ফোনে সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে খরার কবলে পুড়ছে চলতি সময়ের ফসল কাউন,পাট, মরিচ। অপেক্ষাকৃত ধনী কৃষকেরা সেচ দিয়ে পাটসহ অন্যান্য ফসলকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাপদাহের মধ্যে কাজ করতে না পারায় বেকায়দায় পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যান চালকরা।
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, তাপদাহ আর সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন চলনবিল অঞ্চলের মানুষ। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। হিটস্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
কলাপাড়া সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৃষ্টির জন্য হাহাকার চলছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মসজিদে মসজিদে দোয়া-মোনাজাত করা হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির। শুকিয়ে গেছে এলাকার পুকুর, নদী ও জলাশয়। কৃষক পানির অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছে না। ক্ষেতে থাকা সবজি শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদে মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটকদের পদচারণা এখন অনেক কম।
আটঘরিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই থাকছে লোডশেডিং। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। হিটস্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পানির লেয়ার নেমে গেছে। সে কারণে বেশিরভাগ হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট চলছে।