মূল নথি নষ্ট করে গুলশান-বনানীতে ১৬২ প্লট জালিয়াতি

জমির মূল নথি নষ্ট করে রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় ১৬২টি পরিত্যক্ত প্ল¬ট হস্তান্তর এবং বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজউকের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে উঠে আসা এই অনিয়মের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এসব প্ল¬ট হস্তান্তর না করার সুপারিশের পাশাপাশি কমিটি এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে এক মাসের মধ্যে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তাগিদ দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বলা হয়, এই ঘটনায় রাজউকের নিজস্ব আয় হারানোর পাশাপাশি সরকারও প্রায় ২০ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। বৈঠকে রাজউকের ২০০৫-০৮ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট, ২০১০-১১ অর্থ বছরে প্রদত্ত অডিট আপত্তিগুলো আলোচনা হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, সরকারি বিধি উপেক্ষা করে অনিয়মিতভাবে ৯ তলা ভবনের পরিবর্তে ১৮ তলা এবং ৬ তলা ভবনের পরিবর্তে ১৬ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মূল নথির অস্তিত্ব না রেখে পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির মাধ্যমে রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় ১৬২টি পরিত্যক্ত প্লট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে সংস্থার ১০ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ১২৫ টাকা এবং যথাযথ উত্তরাধিকার সনদ ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা হতে অবমুক্তি ছাড়াই নামজারি করায় সরকারের ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি পরিত্যক্ত এসব প্ল¬ট কোনভাবেই হস্তান্তর না করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে প্ল¬টগুলো অবমুক্তির জন্য কারা আবেদন করেছিল, কাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং কবে নাগাদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে জানানোর জন্য বলা হয়। এদিকে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্ল¬ট গ্রহীতার কাছ থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হারে রূপান্তর (কনভার্সন) ফি আদায়ের ফলে সরকারের ৪ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা ক্ষতি এবং বাণিজ্যিক এলাকার প্ল¬টকে বাণিজ্যিকে রূপান্তর না করায় রাজউকের মোট ২ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৪ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কমিটি পাওনাদারদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করা এবং এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে এক মাসের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য আব্দুস শহীদ, আ ফ ম রুহুল হক, আফসারুল আমীন, বেগম রেবেকা মমিন, শামসুল হক টুকু, রুস্তম আলী ফরাজী ও বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন। সিএন্ডএজি মাসুদ আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. গোলাম রব্বানী, রাজউক চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।