চট্টগ্রামে দিনে বিদ্যুত্ উত্পাদন হ্রাস

চট্টগ্রামে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে দিনের বেলায় উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। কাপ্তাই লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও লেগে থাকা যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস স্বল্পতায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রে চাহিদা অনুপাতে উত্পাদন করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনের বেলায়ও ফার্নেস অয়েলনির্ভর পিকিং পাওয়ার প্লান্টগুলো কয়েক ঘন্টা করে চালু রেখে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। পিডিবি জানায়, চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ছোট-বড় বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। আর এসব কেন্দ থেকে দিনের বেলায় উত্পাদন হচ্ছে ৪৯১ মেগাওয়াট এবং রাতের বেলায় উত্পাদন হয় ৬৫৬ মেগাওয়াট। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা নিয়ে চলছে চট্টগ্রামের বিদ্যুত্ কেন্দ গুলো। অধিকাংশ বিদ্যুেকন্দ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় উত্পাদন ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি লেগেই থাকে। তার মধ্যে চলমান গ্যাস ও পানি সংকটে চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে। কিন্তু উত্পাদন হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, বেড়েছে লোডশেডিং। পিডিবি জানায়, কাপ্তাই পানি বিদ্যুেকন্দ্রের ৫টি ইউনিটের উত্পাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ যাবত্ দিনের বেলায় একটি মাত্র ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব হচ্ছে। এই ইউনিট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। ফলে দিনের বেলায় অপর ৪টি ইউনিটে উত্পাদন বন্ধ থাকে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুেকন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘লেকে পানির স্তর ৮৮ এমএসএল থাকলে ৫টি বিদ্যুত্ ইউনিট চালু রাখা যায়। বর্তমানে লেকে পানির স্তর হচ্ছে ৮০ দশমিক ২৯ এমএসএল। এই পরিমাণ পানি দিয়ে একটি ইউনিট চালানো যায়। আর সন্ধ্যার পরে সর্বোচ্চ ৩টি ইউনিট চালু রেখে ১০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে।’ অপরদিকে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রের মধ্যে রাউজান এক নম্বর ইউনিট থেকে ১২০ মেগাওয়াট উত্পাদন হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে রাউজানের ২ নম্বর ইউনিট ও শিকলবাহায় অপর একটি ইউনিট কয়েক মাস যাবত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলনির্ভর পিকিং পাওয়ার প্লান্টগুলো দিনের বেলায়ও বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। এসব ইউনিটগুলো রাতের বেলায় বিদ্যুত্ উত্পাদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দোহাজারী ও হাটহাজারী বিদ্যুেকন্দ্র দু’টি ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। এই দু’টি কেন্দ্রে ট্রেনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু দোহাজারী ও নাজিরহাট রেল লাইনে মেরামত কাজ চালু থাকায় প্রতিদিন তেল পরিবহন করা যাচ্ছে না। সপ্তাহে ৪/৫ দিন তেল পরিবহন করা যায়। রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগন স্বল্পতায় চাহিদা অনুপাতে তেল পরিবহন করা যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা জানান, রিজার্ভারে কিছু বাড়তি তেল মজুদ থাকায় পিডিবি’র চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে মজুদ শেষ হয়ে যাবে। তখন তেল পরিবহন বাড়ানো না গেলে দৈনিক ৮/১০ ঘণ্টার বেশি চালানো যাবে না। পিডিবি জানায়, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। ৭০০ মেগাওয়াট থেকে এখন দৈনিক চাহিদা ৭২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ফলে এসব চাহিদার বিপরীতে গত সোমবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৮০ মেগাওয়াট। পিডিবি পরিসংখ্যান মতে গত এক সপ্তাহ যাবত্ ৭২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫৫০ মেগাওয়াটের বেশি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।