সায়াদ হত্যার বিচার দাবিতে আবারো উত্তাল বাকৃবি
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৮
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মোমতাজ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গতকাল মঙ্গলবার ফের উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। গতকাল সকাল ৮টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে প্রশাসন ভবন ও কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা।
সায়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত সম্পূরক তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় আনা, অভিযুক্তদের নামোল্লেখপূর্বক মামলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল সকাল ৮টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে প্রশাসন ভবন ও কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সরিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে করিম ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় তাহলে আবারো অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার হুমকি দিয়েছে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল ৯টায় আবার প্রশাসন ভবন অবরোধ করার ঘোষণা দিয়ে গতকালের কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আলটিমেটাম দেয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসন আমাদের সাথে কথা না বলা ও দাবি না মানা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের ফলে কোন অনুষদে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। সায়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও চলমান আন্দোলন বিষয়ের মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকরা গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষদের সম্মেলন কক্ষে সভা করেছেন। সভা চলার এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকরা সভাশেষে জানান, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রক্টরিয়াল বডির সকল সদস্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণ থেকে অনুষদের শিক্ষকরা বিরত থাকবেন। এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হক বলেন, শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। এরপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে আমার কিবা করার আছে।
উল্লেখ্য, সায়াদ গত ১ এপ্রিল সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক মারপিটে প্রাণ হারায়। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে আসছে।