রাগী যুবতী কঙ্গনা
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৮
এবার রাফ অ্যান্ড টাফ ইমেজে আংরি গার্লরূপে পর্দায় আসছেন কঙ্গনা রানাওত। আর এই নতুন রূপে আবির্ভাব নিয়ে এরইমধ্যে বলিউডে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি ‘রিভলবার রানি’র নাম ভূমিকায় তাকে উগ্র মেজাজের সন্ত্রাসী তরুণীরূপে দেখা যাবে। একালের ফুলন দেবী টাইপের চরিত্রটি রূপায়ণে কঙ্গনা মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়েছিলেন। তার ব্যতিক্রমী গেটআপ, ভিন্ন ধরনের লুক, হেয়ার স্টাইল, পোশাক-আশাক সবাইকে কৌতূহলী করেছে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বিচিত্র ধরনের চরিত্রে রূপদানকারী কঙ্গনা রানাওত ‘রিভলবার রানি’ সেজে রুপালি পর্দায় আরেক দফা ঝড় তুলবেন—ধারণা করা হচ্ছে। তার রাগী ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী নারী চরিত্র রূপায়ন এবং ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
বলিউডে নারী চরিত্রকেন্দ্রিক ছবির সংখ্যা এমনিতেই খুব কম। নায়ককেন্দ্রিক ছবির ভিড়ে মাঝেমধ্যে হঠাত্ নায়িকাপ্রধান ছবি দেখা গেছে অতীতে। তবে আজকাল নায়িকানির্ভর ছবির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর মুক্তি পেয়েছে ‘গুলাব গ্যাং’ ছবিটি। যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত ও জুহি চাওলা। এ বছরেই মুক্তি পেয়েছে ‘কুইন’ ছবিটি। এটিও নারীকেন্দ্রিক ছবি। যার প্রধান চরিত্রে রূপদান করেছেন কঙ্গনা রানাওত। এ বছরের আরও একটি ছবি ‘দেড় ইশকিয়া’ও ছিল নায়িকাকেন্দ্রিক। যার মূল ভূমিকায় ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত ও হুমা কুরেইশি। গত কয়েক বছরেও তেমনিভাবে নারী চরিত্রনির্ভর বেশ কিছু ছবি দেখা গেছে। এরমধ্যে ‘রাজ্জো’, ‘হিরোইন’, ‘ইংলিশ ভিংলিশ’, ‘কাহানি’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ প্রভৃতি রয়েছে। আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে ‘রিভলবার রানি’ ও ‘কাঞ্চি’ ছবি দুটি। মজার ব্যাপার হলো, দুটি ছবির গল্পের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ আলাদা হলেও দুটি ছবিই নারী চরিত্রকেন্দ্রিক। ‘রিভলবার রানি’ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ভারতের দস্যু কবলিত এলাকা চম্বলের আজকের প্রেক্ষাপটে। এক দুর্ধষ অস্ত্রবাজ রাজনৈতিক নেত্রীর বিচিত্র কর্মকাণ্ড এবং হূদয়ের চাওয়া-পাওয়ার গল্প নিয়ে আবর্তিত এ ছবিতে সন্ত্রাস কবলিত চম্বল এলাকার সমকালীন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সেই বদরাগী, উগ্র স্বভাবের দুর্ধর্ষ অস্ত্রবাজ রাজনৈতিক নেত্রী অলকা সেজে দর্শকদের সামনে আসছেন কঙ্গনা রানাওত। এ ছবিতে মূল চরিত্র এটিই। এ ছবিতে দুর্ধর্ষ অস্ত্রবাজ তরুণী অলকা ভালোবেসে বলিউডের এক উঠতি তরুণ অভিনেতাকে। ‘রিভলবার রানি’ অলকাই ছবির মূলপ্রাণ। এখানে নায়ক চরিত্রটি একেবারেই গৌণ। নায়িকাপ্রধান আরেকটি ছবিতে ড্যাশিং নারীরূপে রাফ অ্যান্ড টাফ ইমেজে দর্শকদের সামনে আসছেন কঙ্গনা রানাওত। এ ধরনের নায়িকা চরিত্র সাধারণত হিন্দি সিনেমায় খুব বেশি একটা দেখা যায় না। চম্বলের দস্যু রানি ফুলন দেবীর আধুনিক সংস্করণ ‘রিভলবার রানি’র অলকা চরিত্রটি। যা অভিনেত্রী কঙ্গনার জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বৈকি। এ প্রসঙ্গে কঙ্গনা রানাওত নিজেই বলেন, ‘রিভলবার রানি’ ছবিটি আমাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পর্দায় তুলে ধরবে। এখানে আমি নরম কোমল স্বভাবের কোনো মেয়ে নই, রুক্ষ, বদমেজাজি দুঃসাহসী নির্মম স্বভাবের একটি মেয়ের চরিত্র দেখে দর্শক সত্যি চমকে উঠবেন। যার হাতে সবসময় পিস্তল থাকে, হাসতে হাসতে মেয়েটি মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি করে এ নিয়ে তার মধ্যে কোনো বিকার বা অনুশোচনা নেই। সবাই তাকে ভয় পায়, সমঝে চলে। ‘রিভলবার রানি’ ছবিটি দেখার পর কোনো ছেলেই আমাকে বিয়ে করতে চাইবে না। এ ছবির চিত্রনাট্য যখন আমাকে শোনানো হয়, পাশেই আমার বোন ছিল, চিত্রনাট্য শুনেই সে আমাকে নিষেধ করে। কারণ চরিত্রটি ক্ষ্যাপাটে, জটিল, মারমুখী, বেপরোয়া, অভদ্র, শিষ্টাচারহীন বলতে গেলে তাবত্ খারাপগুণের যোগফল। এ ধরনের চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলা খুবই কষ্টকর। তারপরেও ছবিটি করেছি। এ ছবি দেখে হয়তো অনেকেই এখন ভেবে বসবে, আমি বোধ হয় এমনই। ‘রিভলবার রানি’ মুক্তির পর আমার জন্য পাত্র খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হবে!’
২৭ বছর বয়সী কঙ্গনা রানাওত ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই জটিল ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আসছেন। ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে অনেক সম্ভাবনার চমক দেখিয়ে বলিউডে তার পথচলা শুরু হয়েছিল। এরপর ‘ফ্যাশন’ ছবিতে একজন হতাশাগ্রস্ত সুপার মডেলের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এজন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। গত বছর কঙ্গনাকে ‘কৃষ থ্রি’ ছবিতে এক সুপারম্যানের চরিত্রে তার অবাক করা পারফর্মেন্স অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বছর কয়েক মাস আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুইন’ ছবিতে নাম ভূমিকায় কঙ্গনার অপূর্ব অভিনয় বলিউডজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে আমির খান, দীপিকা পাড়ুকোন প্রমুখ ‘কুইন’ ছবিটি দেখে কঙ্গনার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেছেন। তার রেশ না কাটতেই আসছে ‘রিভলবার রানি’ ছবিটি। হয়তো এ ছবি কঙ্গনার ক্যারিয়ারে নতুন ডাইমেনশন সৃষ্টি করবে। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে ছবির চিত্রনাট্য লেখার ওপর ডিপ্লোমা করছেন। গত প্রায় দেড় বছর ধরে এ বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন তিনি। ‘রিভলবার রানি’ ছবির মুক্তির পর কঙ্গনা অভিনয়ে সাময়িক বিরতি দিয়ে নিউইয়র্ক যাবেন চিত্রনাট্য লেখার কোর্স কমপ্লিট করতে। ওখান থেকে ফিরে তিনি ‘তানু ওয়েডস মানু’র সিক্যুয়ালের কাজ শুরু করবেন। এ ছাড়াও একগাদা নতুন ছবির অফার রয়েছে তার কাছে। একজন ভিন্ন ধাঁচের অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডের মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে কঙ্গনার রানাওতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে তার মেধা ও যোগ্যতার কারণেই।