সময়ের সুরে নওমী
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৯
এ সময়ের প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব সুরকারের সাথেই কাজ হয়েছে জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। প্লে-ব্যাক, অডিও কিংবা কোনো রিয়েলিটি বা আড্ডার অনুষ্ঠানে জনপ্রিয়তার সূত্রেই নওমীর ডাক আসে সাবলীলভাবেই। সময়ের হাত ধরেই তাই নিজস্ব ঢংয়ে নিজের গান করছেন নিয়মিত। সাম্প্রতিক কাজের সেই গল্পগুলোই বলেছেন আনন্দ বিনোদন-এর কাছে। লিখেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু
গান নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে নওমী বললেন, ‘আমি হয়তো দেশেই থাকব না।’ হঠাত্ এমন সিদ্ধান্ত অভিমানের কারণে কি না সেটি এক বড় প্রশ্ন। এর পরপরই এক গাল হেসে জবাব দিলেন, ‘আসলে বাবা-মা পড়াশোনার জন্য ইউকে পাঠাচ্ছেন। তবে এখনকার সময়ে বিশ্বের যেকোনো স্থানে থাকি না কেন গানটা নিয়মিত করা যাবে।’ নিজের সাম্প্রতিক কাজের ভেতরে সর্বশেষ বৈশাখ থেকে শুরু করে প্রতিটি উত্সবে বেরিয়েছে তার একাধিক গান। তবে এই মিশ্র অ্যালবামের গান করে খুব একটা লাভ হয় না বলে জানালেন নাওমী। নিজের গানগুলোর বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও না হলে যে গান জমে না। এমন একটা প্রচলিত প্রথার সাথে নাওমীও পরিচিত। তবে ইদানীং নতুন এক অনুরোধ বাড়ছে ক্রমশ। আর তা হলো একাধিক নতুন মিউজিক ডিরেক্টর কাম সিঙ্গাররা তার কাছে অনুরোধ নিয়ে আসেন ডুয়েট গান নিয়ে। এই ডুয়েট গানের মধুর যন্ত্রণায় নাওমীও বেশ ভুগছেন। নওমীর কথায়, ‘আমি বিষয়টিকে মোটেই নেতিবাচক দেখি না। তবে ইদানীং এই প্রকটতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে একটু সাবধানী ও রুচিশীল না হলে তো ক্যারিয়ার বলতে কিছু থাকবে না। ইদানীংকার যারা গান গাইছেন তাদের গান একই রকম হচ্ছে এমন অভিযোগের তালে তালি দিতে নারাজ নাওমী। এটা সবসময়ই শুনেছি। আমার বাবা-মা একসময় বলত। কিন্তু বিভিন্ন স্টেজ শোতে যখন বাবা-মা দেখেন তার মেয়ের গান নিয়ে একাধিক অনুরোধ আসছে তখন তার আনন্দটা দেখতেই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন। নাওমী এমনই প্রাণোচ্ছল। ক্ষুদে গানরাজ থেকে আসা পড়শী এখন আর নিজেকে সেই প্লাটফর্মের শিল্পী হিসেবে দাবি করতে চান না। পাছে তাকে সবাই ক্ষুদে বলে ছোট করে কি না—এই ভয়ে। কিন্তু নাওমীর হিসেবটা অন্যরকম। আমি যে প্লাটফর্মের জন্য শিল্পী নওমী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। সেটাতে আপত্তি করাটা তো আমার নিজের সাথে নিজের প্রতারণা। আমি অবশ্যই ক্ষুদে গানরাজ ও চ্যানেল আইয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আজীবনই আমার কৃতজ্ঞতার সূত্রে এই দুটি নাম লেখা থাকবে। খুব শিগগিরই হয়তো দেশ ছাড়বেন না। তব উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতেও যে তার মন খুব একটা সায় দিচ্ছে তাও নয়। কারণ এখানে লোকাল শোতে এত ভক্ত, টক শো, টিভি কনসার্ট—এগুলো যে অপার ভালোলাগায় তাকে টানে বারববার অদ্ভুত এক মায়াজালে।