পুঁজিবাজারে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির দাবি ডিএসই ও সিএসই’র
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৫৯
আসন্নন বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। একই সঙ্গে লভ্যাংশের ওপর থেকে উেস আয়কর প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব করা হয়। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ডিএসই’র চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা, পরিচালক রুহুল আমিন, শাকিল রিজভী, খাজা গোলাম রসুল, মোহাম্মদ শাজাহান, শরীফ আনোয়ার, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন, সিএফও আহমেদ দাউদ, সিডিবিএলের উপব্যবস্থানা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী প্রমুখ।
স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকার পরও উেস কর কাটা হচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কর রেয়াত সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রস্তাবনায় লভ্যাংশের ওপর থেকে উেস আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে বলা হয়, এর ফলে দ্বৈত করের জটিলতা তৈরি হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি একবার তার আয়ের ওপর কর দিচ্ছে। আবার একই আয়ের ভিত্তিতে ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর কর দিতে হচ্ছে। এই কর প্রত্যাহার করা হলে কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাবনায় করপোরেট আয়ের ক্ষেত্রে কর রেয়াত সুবিধা পুনর্বিন্যাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমানে ২০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত পায়। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের প্রস্তাবনা হলো, ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়া।
বর্তমানে মূলধনী মুনাফার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রস্তাব দিয়েছে এটিকে বিভিন্ন মেয়াদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কর হার নির্ধারণের। এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত শেয়ার ধারণ করলে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে, ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত ধারণ করলে ৫ শতাংশ এবং ৩ বছরের বেশি ধারণ করলে শূন্য শতাংশ করারোপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।