স্পোর্টস রিপোর্টার
অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ নারী ফুটবলের বাছাইয়ে গ্রুপিং দেখে স্বস্তিতে নেই মেয়েদের ফুটবলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। বাংলাদেশের গ্রুপে আবার সেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ঠাঁই পেয়েছে। আগেরবার এই দুই দলের সঙ্গে ছিল আরো শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া। এবার উত্তর কোরিয়া না থাকলেও স্বাগতিক থাইল্যান্ড আছে বাংলাদেশের গ্রুপে।
গত আসরে বাংলাদেশের গ্রুপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ৯-০ গোলে হারতে হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ধাক্কা সামাল দিয়ে না উঠতেই জাপান (৩-০), অস্ট্রেলিয়ার (৩-২) মুখোমুুখি হতে হয়েছিল। তিন ম্যাচ হেরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগ পাচ্ছিল না। এতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে পারবে না সেটা আগেই জানা ছিল ফুটবল বোদ্ধাদের। বাস্তবে হয়েও ছিল তাই।
সেই ম্যাচগুলোর কথা নতুন করে ভাবনায় আনছেন কোচ ছোটন। দুর্ভাবনা জট পাকাচ্ছে ছোটনের মনে। একটা অস্বস্তি থাকলেও আবার কিছুটা স্বস্তিও দেখতে পাচ্ছেন এই ভেবে যে, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের বিপক্ষে গত আসরেই খেলে এসেছে বাংলাদেশ। কোচ বলছেন, ‘জাপান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার আগে আমরা কিছু জানতাম না। এখন জানি। আগের আসরেই খেলে এসেছি। এখন সুবিধা হচ্ছে এই দুই দলকে অচেনা মনে হচ্ছে না।’
উত্তর কোরিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করে। সেখানে বাংলাদেশের মতো দল পেরে উঠা অবাস্তব। লড়াই করাটাই সেখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হয়ে উঠে। ছোটন বললেন, এখন আমরা খেলার আগে একটা অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে নামব, এটা আমাদের প্লাস পয়েন্ট।’
পুরোনো খেলার স্মৃতি নিয়ে ছোটন বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের জেতা ম্যাচ। সেটা হেরে গিয়েছিলাম। এবার গতবারের মতো হবে না। খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ থাইল্যান্ড প্রসঙ্গে কথা উঠলে ছোটন যেন একটু সাহস পেলেন। বললেন, ‘থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের লড়াই হবে।’
জাপান-অস্ট্রেলিয়া বলে কি বাংলাদেশের মেয়েরা আগেই হেরে যাবে? এমন প্রশ্নে ছোটন বললেন, ‘আমি তো আগেই বলেছি। এখন আগে থেকে বলা যায় না। আমরা এখন ওইসব দেশকে জানি। তারা অনেক শক্তিশালী আমাদের সঙ্গে ওদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয়। মাঠের বাস্তবতায় অনেক ফারাক।’
থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো সমান শক্তির কোনো দেশের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চান ছোটন। বাংলাদেশের কোচ বললেন, ‘সমান শক্তির দেশের সঙ্গে খেলতে পারলে মূল লড়াইয়ে সেটা কাজে আসে।’ বাফুফে অবশ্য আগেই জানিয়েছে সেপ্টেম্বরে বাছাইয়ে খেলতে যাওয়ার আগে ইউরোপের কোনো দেশে ছুটিতে গেছেন মারিয়া, মনিকারা।
মহিলা ফুটবলারদের ক্যাম্প এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। সব খেলোয়াড়কে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। গত ২০ মে হতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছেন মানিকা, মারিয়া, কৃষ্ণা, সানজিদা, মৌসুমী, শিউলীরা। বাড়ি যাওয়ার আগে সবাইকে করণীয় জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং অনুশীলন বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ৮ জুন পুনরায় অনুশীলন শুরু হবে। সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত টানা অনুশীলন চলবে।