ফরিদ ও তার পেয়ারা বাগান

এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ফরিদের মাথায় বিদেশ যাওয়ার ঝোঁক চাপে। দালালের কাছে টাকা দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে থাকেন। দীর্ঘ দিন ঘোরার পর প্রচুর টাকাপয়সা নষ্ট হয় তার। এরপর মাথা থেকে বিদেশ যাওয়ার নেশা ঝেড়ে ফেলে ঈশ্বরদীর সাহাপুরের পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউসুব হরিণের ছেলে ফরিদ হরিণ কৃষি কাজে লেগে পড়েন। পরিশ্রম করে ধীরে-ধীরে ফরিদ গড়ে তোলেন তার কৃষি খামার। বর্তমানে তার খামারের ২০ বিঘা জমিতে রয়েছে উন্নত জাতের থাই পেয়ারার গাছ। এছাড়া লিচু, আম ও লেবুর বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, কোন কূল-কিনারা না পেয়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত সফল কৃষক কুল ময়েজ চাচার পরামর্শে পেয়ারার বাগান গড়ে তুলি। অসময়ের পেয়ারা কম পাওয়া গেলেও দাম পাওয়া যায় অনেক বেশি। অসময়ের পেয়ারা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। ফরিদ আরো জানান, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা তার খামার পরিদর্শন করেছেন এবং কৃষকের কৃষি মেলার উদ্বোধন করেছেন তার আম বাগানে। বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, ফরিদের মতো শিক্ষিত যুবকেরা কৃষিকাজে এগিয়ে এলে ভালো করবে। ফরিদের বাগানের পেয়ারা গাছে অসংখ্য ফুল ও পেয়ারা এসেছে। ঈশ্বরদী উপজেলার অন্যান্য বাগান থেকে তার ফলন ভালো হবে এবং আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবানও হবে সে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলম বলেন, আমাদের কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ফরিদের মতো অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী ও সফল।