বিপিসি’র আমদানি করা তেল চুরি বন্ধের উদ্যোগ

জাহাজ থেকে তেল মিশ্রিত বর্জ্য বিক্রি বন্ধ করা হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সিস্টেম লসের নামে চুরি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হতে তেল মিশ্রিত বর্জ্য কিংবা স্লাজ বিক্রি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তেলবাহী জাহাজের বেশিরভাগ তেল খালাসের পর বন্দর এলাকায় কিংবা বহির্নোঙরে জাহাজগুলো তেল মিশ্রিত বর্জ্য ও স্লাজ বিক্রি করে থাকে। এ সব কেনার জন্য জাহাজসমূহের স্থানীয় এজেন্টের সাথে দেন-দরবার এবং বিরাট অংকের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের চাপ। তেলবাহী জাহাজের তেল মিশ্রিত স্লাজের নামে মূলত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বেচা-কেনা হওয়ায় এ ধরনের স্লাজ কেনার জন্য প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান জাহাজের তেল মিশ্রিত স্লাজ কেনার জন্য গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জাহাজ এবং অয়েল ট্যাংকার থেকে চোরাই তেল ক্রয় করে থাকে। আবার চোরাই তেল ও ফার্নেস অয়েল বিভিন্ন সমুদ্রগামী জাহাজে বিক্রিও করে থাকে তারা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেল সিস্টেম বা আউট টার্ন লস যে পরিমাণ দেখানো হয় বাস্তবে বিভিন্ন উপায়ে তা চুরি হয়ে যায়। আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের সিস্টেম লসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দুদক বিপিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করেছে। যা তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে স্লাজ মিশ্রিত তেল বিক্রির সুবিধা থাকায় তেলবাহী জাহাজের মাস্টার কিংবা চিফ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা তেল খালাসের সময় ভালভাবে পাম্পের মাধ্যমে তেল খালাস করেন না। বরং জাহাজের ট্যাংকের পাইপ লাইন, কার্গো ট্যাংকে কিংবা লুক্কায়িত ট্যাংকে তেল রেখে দেয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আমদানি ট্যাংকসমূহ তেল খালাসের পর পরবর্তী চালানের জন্য তেল লোডিংয়ের পূর্বে পাইপ লাইন এবং কার্গো ট্যাংকসমূহ ‘সুইপিং’ করে ট্যাংকারের বর্জ্য মিশ্রিত তেলের স্লাজ ট্যাংকে মজুদ করা হয়। বিপিসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ওই সকল তেল মিশ্রিত বর্জ্য বা স্লাজ বিক্রি করতে দেয়া না হলে ট্যাংকের বিভিন্ন অংশে তেল রেখে দেয়ার প্রবণতা কমে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, শুধু বিপিসি তেল মিশ্রিত স্লাজ বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করলে হবে না। একই সাথে বর্জ্য বা স্লাজ বিক্রির বা কেনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রদান বন্ধ করতে হবে। জানা যায়, বিপিসি কর্তৃক আমদানিকৃত তেলবাহী ট্যাংকার হতে জেটিতে তেল খালাসের পর বিপিসি ও কোম্পানি প্রতিনিধি এবং সার্ভেয়ার ট্যাংকার থেকে নেমে যাওয়ার পর সাধারণত রাতের বেলায় তেল চুরি হয়। জেটিতে থাকা জাহাজের পাশে বার্জ বা মিনি ট্যাংকার এনে তেল মিশ্রিত স্লাজের নামে তেল ভর্তি করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তেলবাহী ট্যাংকার থেকে পরস্পরের যোগসাজশের মাধ্যমে তেল চুরির সাথে জড়িত। তাছাড়া জেটি এলাকায় স্লাজের মাধ্যমে তেল বেচা-কেনা হওয়ায় তা পাশে অবস্থিত তেল স্থাপনার জন্য হুমকি স্বরূপ এবং পরিবেশ ও দেশের আভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের বাজার ব্যবস্থাপনার জন্যও ক্ষতিকর বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। \