নীরব ভূমিকায় বিজেপি নেতা সুষমা স্বরাজ

ভারতের বিরোধী দল জনতা পার্টির (বিজেপি) সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা সুষমা স্বরাজ এখন নীরব ভূমিকা পালন করছেন। গত দুই মাসে লোকসভা নির্বাচনে প্রচারণার ঝড় বয়ে গেলেও তার উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়েনি। বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী গণমাধ্যমের জায়গা কেড়ে নেয়ার পর বিজেপির সুপরিচিত নারী নেত্রী সুষমা এখন চুপসে গেছেন। কিন্তু ভারতের বর্তমান রাজনীতিতে সুষমা স্বরাজ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি হরিয়ানা রাজ্যে মন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর তিনি ভারতের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের নারী কেবল অপারেটর রুপ শর্মার দাবি সুষমা স্বরাজ ভারতের সবচেয়ে ভাল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ছিলেন। একবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। অনেকের মতে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা উচিত ছিলো। যদিও সেটা হয়নি। বিজেপির ছাত্র সংগঠন থেকেই সুষমা স্বরাজের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু হয়। তিনি খুবই ভালো একজন বক্তা। সময়ের পরিবর্তনে সুষমা স্বরাজ নেতা হিসেবে যত উপরে উঠেছেন নিজেকেও ততটা গণমাধ্যম থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তিনি কদাচিত্ গণমাধ্যমকে সাক্ষাত্কার দেন। বিজেপির সাবেক প্রধান নিতীন গড়করি পদত্যাগ করলে তাকে প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। তখন তিনি বিজেপির নেতৃত্ব নিলে এখনকার লোকসভা নির্বাচনে তিনিই হতে পারতেন মূল ব্যক্তি। রাজনৈতিক জীবনে সুষমা স্বরাজ কখনোই কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি বা সমালোচনামূলক বক্তব্য দেননি। এলকে আদভানির পর বিজেপিতে তিনিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা। এমনকি কংগ্রেসও এ কথা স্বীকার করে। মোদী নিয়ন্ত্রিত দলীয় অংশ বলছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সুষমা স্বরাজ পার্লামেন্টের স্পিকার হবেন। এটা মূলত মোদীর রাস্তা থেকে সুষমাকে সরানোর কৌশল। কিন্তু সুষমা স্বরাজ এখনো নেতৃত্ব ছেড়ে দেননি।